বিএমইউর অতিরিক্ত পরিচালক শাহিদুল হাসান সাময়িক বরখাস্ত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মালামাল চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মো. শাহিদুল হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) হাসপাতালের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ডা. শাহিদুল হাসান হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. হাফিজুল ইসলামকে ডেকে হাসপাতাল থেকে হুন্দাই কোম্পানির মালামাল বের করার মৌখিক নির্দেশ দেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ আছে কি না তা যাচাই করেননি। এ ছাড়া মালামাল প্রকল্পের হওয়া সত্ত্বেও প্রকল্প পরিচালক ও পরিচালক (এসএসএইচ) উপস্থিত থাকলেও তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই সেদিন সন্ধ্যায় দুই ট্রাক মালামাল হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাত ১১টার দিকে আরও চার ট্রাক মালামাল বের করার সময় স্থানীয়দের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হলেও তখনও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
এতে বলা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে আসায় ডা. শাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি, অধ্যাদেশ ও প্রবিধানের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) কালীন দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১৪ ধারা শাহিদুল হাসানের প্রতি আরোপিত হবে এবং সে অনুযায়ী তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে বেতন ও ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তার চাকরি নিয়ন্ত্রিত হবে এবং এই আদেশ জারির তারিখ থেকেই তার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হবে।
জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ডা. শাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক