হাম রোগ কি? লক্ষণগুলো কী কী
হাম এমন একটি রোগ, যেটাকে অনেকেই সাধারণ সর্দি-জ্বর ভেবে অবহেলা করেন, আর সেখান থেকেই শুরু হয় বড় বিপদ। শুরুতে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া—সবকিছুই খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই এই রোগ ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে।
বাংলাদেশে আবারও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, এবং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ বেশ কিছু জেলায় সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। গণমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও শোনা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হাম Measles virus দ্বারা সৃষ্ট একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাম সার্ভিলেন্স-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভাইরাস প্রথমে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে, তারপর রক্তের মাধ্যমে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়, ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। লক্ষণ হিসেবে থাকে উচ্চ জ্বর, অনবরত কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা, এবং কয়েকদিন পর মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া।
হামে কেন আতঙ্ক নয়?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সঠিক সময়ে টিকা ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। অযথা ভয় মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তে নিয়ে যেতে পারে—যেমন টিকা এড়িয়ে যাওয়া বা ভুল চিকিৎসা নেওয়া।
কীভাবে ছড়ায়?
* আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচির মাধ্যমে
* খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে
লক্ষণগুলো কী?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বাতাসের মাধ্যমে (কাশি/হাঁচি) ছড়ায়। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে ৯–১০ জন অনাক্রম্য শিশু আক্রান্ত হতে পারে। শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
প্রথম ধাপ:
* ৩–৫ দিন জ্বর
* কাশি
* সর্দি
* চোখ লাল (Conjunctivitis)
* মুখের ভেতরে সাদা দানা (Koplik spot)
দ্বিতীয় ধাপ:
* মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লাল ফুসকুড়ি
* জ্বর বেড়ে যায়
* শিশু দুর্বল হয়ে যায়, খেতে চায় না
* র্যাশ হওয়ার ৪ দিন আগে থেকেই এবং র্যাশের ৪ দিন পরে পর্যন্ত সংক্রমিত করতে পারে।
বিপজ্জনক জটিলতা
* নিউমোনিয়া (সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ)
* ডায়রিয়া
* কানের ইনফেকশন
* অপুষ্টি
* এনসেফালাইটিস
* চোখের সমস্যা, অন্ধত্ব
* দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির অভাব/ইমিউন সিস্টেমে ক্ষতি
* খুব বিরল ক্ষেত্রে Subacute Sclerosing Panencephalitis (SSPE) – কয়েক বছর পরে মস্তিষ্কের জটিল রোগ
* মৃত্যু
লেখক: ডা. মো. কামরুজ্জামান,কামরুল সহযোগী অধ্যাপক; বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট।

ডা. মো. কামরুজ্জামান