নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না নেতানিয়াহু, বক্তব্য দিয়ে ফিরে যাবেন ইসরায়েলে
জাতিসংঘের অধিবেশনে কোণঠাসা হয়ে সংক্ষিপ্ত সফরে নিউইয়র্কে আসছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ‘ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন নেতানিয়াহু এবং সেদিনই ইসরায়েলে ফিরে যাবেন।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় দুপুর ২টায় অর্থাৎ ইসরায়েলের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরান প্রসঙ্গ বেশি গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তার ভাষণে ‘চমকপ্রদ’ কিছু বিষয় থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এবার তিনি নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না। ভাষণ শেষ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হবেন। তার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকও সফর করবেন না।
নেতানিয়াহুর বিমান ‘উইং অব জিওন’ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির একটি সামরিক বিমানঘাঁটি অথবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জটিলতা এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে তার সফরসূচিতে টেক্সাসে থামার এবং ইলন মাস্কের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা ছিল। সেটিও বাতিল করা হয়েছে। একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত বিরতির প্রয়োজনীয়তা এবং শেষ মুহূর্তের আয়োজন নিয়ে মার্কিন পক্ষের অনাগ্রহ—দুই কারণে ওই বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর এবারের সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানরত অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের চেষ্টা চলছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে এসব বৈঠক আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি মঙ্গলবার সি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ফিরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কর্মসূচি রয়েছে।
নেতানিয়াহুর ভাষণে ইরানের হুমকির প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ভাষণে ‘চমকপ্রদ’ কিছু বিষয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জাতিসংঘে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল সম্ভাব্য প্রতিবাদের বিষয়টির জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে ভাষণের সময় হট্টগোল বা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। গত বছরও এ ধরনের প্রতিবাদ হয়েছিল।

জাকের হোসেন, নিউইয়র্ক থেকে