চোখের প্রেসার কখন পরীক্ষা করতে হবে?
চোখের গ্লুকোমার কারণে অনেক সময় চোখে প্রেসার হয়। তাই রোগের ঝুঁকি এড়াতে চোখের প্রেসার পরীক্ষা করা জরুরি।
এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৫৬০তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছ্নে ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং কমিউনিটি ও অপথালমোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : চোখ পরীক্ষা করে প্রেসারটা আছে কি না সেটি দেখতে হবে। সেটা কখন পরীক্ষা করতে হবে?
উত্তর : যখনই চোখ পরীক্ষা করতে যাই, যখনই চশমা পরীক্ষা করতে যাই, কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাই, অন্তত যেন প্রত্যেকটি রোগী চোখে প্রেসার আছে কি না, একটু দেখে নেন। চোখের প্রেসার থাকলে সঙ্গে সঙ্গে যদি ওষুধ দিই, তাহলে অন্ধত্ব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। গ্লুকোমার একটি খারাপ দিক হলো ভবিষ্যতে যদি এর চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অন্ধ হলেও যেই রোগে আবার ফিরে আসে সেটি হলো ক্যাটারেক্ট। চোখের ছানি। এটি রোগীরা জন্মের সময়ও চোখে নিয়ে আসতে পারে। রেটিনোব্লাসটোমার মতোও এটি অনেক সময় মনে হয়। আর ছানিতে সে দেখতে পায় না। চোখ ঘুরিয়ে এদিক, সেদিক দেখতে হয়। দুই মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে এর অস্ত্রোপচার করে নিতে হয়। আমাদের দেশে ফ্যাকো সার্জারিসহ খুব সফলভাবে আমরা এটি করে থাকি।
বড়দের বিভিন্ন কারণে ছানি পড়তে পারে। আঘাতজনিত কারণে, বয়সজনিত কারণে হতে পারে।
অনেকে ভাবেন ছানি সাদা না হলে চিকিৎসকের কাছে যাবে না। ধরেন একজন অফিসে কাজ করে। সে ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছে না। দূরের মানুষ ভালো দেখতে পাচ্ছে না। তার যখনই দৈনিক কাজ বন্ধ হবে, ছানি সাদা-পাকা এগুলোর দরকার নেই। যেই সময় কাজ বন্ধ হয়ে যাবে, সেই সময় ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য আমরা সবাইকে বলি। সে ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা হলো ফ্যাকোসার্জারি। ফ্যাকোসার্জারি করে ভালো করে দিতে পারি। এটা এখন আর কঠিন কোনো রোগ নয়। দুই ঘণ্টার মধ্যেই রোগী বাড়িতে চলে যেতে পারে। ছানি কোনো কঠিন রোগ নয় এখন।
তবে ছানি যাতে না হয় এ জন্য কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন ভালো খাওয়াদাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, কালো চশমা পরা, অথবা সানগ্লাস ব্যবহার করা, যাতে আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখা, যারা রেডিয়েশন অঙ্কলজি বা মাঠে কাজ করে, তারা যাতে সূর্যের আলো থেকে নিজেদের রক্ষা করে, এই সুরক্ষা দিলে হয়। লোহার টুকরো যাতে না ঢোকে, এসব দিকে খেয়াল রাখলে ছানি রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তবে চুল পাকলে, বয়স হলে ছানিও সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। সেই কারণে এরকম হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যেন চিকিৎসা করে নেয়। এই ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি।
আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে একটা কথা বলি, তারা যেন ফেসবুক অথবা মোবাইলে গেমস বেশি না খেলে, এদিকটা খেয়াল করতে হবে। ঘরে যারা টিভি দেখে তাদেরও আমি বলি আলোতে দেখবেন। ঘর অন্ধকার করে দেখে, কাছে গিয়ে দেখে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগেই চোখ পরীক্ষা করিয়ে দেখতে হবে।

ফিচার ডেস্ক