ঘুমের অসুবিধা কেন হয়?
ঘুমের অসুবিধা বা স্লিপ ডিজঅর্ডার বিভিন্ন কারণে হয়। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৬২৭তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. ঝুনু শামসুন নাহার। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : ঘুমের অসুবিধাকে ডিজঅর্ডার কখন বলবেন?
উত্তর : সাইকিয়াট্রিতে ডিজঅর্ডার বলে একটি বিষয় আছে। আমরা তখনই একে ডিজঅর্ডার বলব যখন পারিবারিক, সমাজিক জীবনে এর ব্যাঘাত ঘটবে। যখন স্বাভাবিকভাবে পারিবারিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত, পেশাগত জীবন চালিয়ে যেতে পারব না—তখনই ডিজঅর্ডার বলে ধরে নেব আমরা।
প্রশ্ন : ঘুম হচ্ছে না, ঠিকমতো, এ জন্য কাজে ব্যাঘাত ঘটছে—এটাকে কোন ধরনের ব্যাঘাতে ধরব?
উত্তর : সিজোফ্রেনিয়া, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ সবকিছুতেই কিন্তু ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। সেই সঙ্গে ইনসোমনিয়া বলে একটি বিষয় আছে। সেখানেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। আমরা জানি, শারীরিক, মানসিক সবকিছু ঠিকঠাক করতে ঘুমের একটি বড় ভূমিকা আছে। তাই আমরা পর পর যদি কয়েকদিন না ঘুমাই, পরে বিভিন্ন রকম মানসিক রোগের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন হ্যালুসিনেশন হতে পারে। ডিলুশ্যন হতে পারে। এই রকম গুরুতর মানসিক রোগের সমস্যাও দেখা দেয়, স্লিপ ডিপ্রাইভেশন হলে। আমরা যদি এমফেটামিন দীর্ঘদিন সেবন করি, এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এমফেটামিনের পরবর্তী লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় হ্যালুসিনেশন, ডিলুশ্যন।
প্রশ্ন : একজন মানুষের সাধারণত ঘুমের অসুবিধা হয় কেন?
উত্তর : আমাদের যারা টিনএইজ ব্যবহারকারী বা বয়োঃসন্ধি তারা দেখা যায় যে ফেসবুক ব্রাউজ করে। কিংবা তাদের লেখাপড়া রাতের বেলা করে। রাত ১২টার দিকে পড়তে বসে। তাতে দেখা যায় যে তারা ভোরের দিকে ঘুমায়। সারাদিন ঘুমাচ্ছে। আবার রাতের বেলা তারা এসব কাজে চলে যাচ্ছে। এতে দেখা যায় ঘুমের চক্র পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। এই ঘুমের চক্র পরিবর্তন হয়ে গেলে বেশ একটি অসুবিধা হয়। সন্ধ্যা হলেই মস্তিষ্কে মেলাটোনিন নামের একটি হরমোন তৈরি হয়। এই স্লিপ হরমোন বের হচ্ছে, আমরা ঘুমাচ্ছি না। তাতে মানসিক, শারীরিক, স্মৃতিজনিত—সবকিছুর প্রতি ব্যাঘাত ঘটে।
প্রশ্ন : স্লিপ হাইজিন বা ঘুমের নিয়ম-কানুনের বিষয়গুলো কী?
উত্তর : ঘুমের হাইজিন মেনটেইন করা হয়, ভালো ঘুমের জন্য। কারো ঘুমের চক্র পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। সে আইসোলেটেড হয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলা আমরা জেগে থাকি, সবার সঙ্গে মিশি। তবে সে দেখা যাচ্ছে দিনের অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে। আবার সে রাত ১০টা বা ১২টার পরে অ্যাকটিভ হচ্ছে। এতে সে আইসোলেটেড হয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ে আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত মা-বাবারা আসছেন। ছেলেমেয়েরাও চাচ্ছে, তারা যাতে এটি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। সেজন্য আমরা বলি যে স্লিপ হাইজিন পালন করা। ঘুমের কিছু নিয়মকানুন পালন করা। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যেতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে উঠতে হবে।

ফিচার ডেস্ক