বকেয়া ৫০ লাখ, চিকিৎসায় মায়ের সঞ্চয় ভাঙছেন ‘মেঘদলে’র গিটারিস্ট
দীর্ঘদিন ধরে সংগীতের পাশাপাশি টিভিসি, ওভিসি, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমার বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে কাজ করছেন ব্যান্ড ‘মেঘদল’-এর গিটারিস্ট ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রাশিদ শরীফ শোয়েব। কাজের স্বীকৃতি পেলেও পারিশ্রমিক আদায়ে বছরের পর বছর সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এই সংগীতশিল্পী।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শোয়েব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আজ সাতদিন ধরে আমি হসপিটালাইজড, ২০২৪ সালের পর আবারও। ডেঙ্গু, হাই ডায়াবেটিক, ইত্যাদি ইত্যাদি। অবস্থা ভয়ানক। জানি না কবে বাসায় যেতে পারবো। দোয়া রাইখেন।’
এরপর নিজের দীর্ঘদিনের পাওনা পারিশ্রমিকের বিষয়টি সামনে আনেন তিনি। শোয়েব জানান, ২০১১ সালে নিকেতনে মিউজিশিয়ান ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিয়মিত টিভিসি, ওভিসিসহ বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে কাজ করতে থাকেন।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু সিনসিয়ারলি বেস্ট এফোর্ট এবং ডেডলাইন মেইনটেইন করে কাজ করতাম, সেহেতু কাজের সংখ্যা এবং মানি ফ্লো বাড়তে শুরু করলো।’
তখন নিকেতনের একটি ছোট একরুমের স্টুডিও থেকে কাজ করতেন শোয়েব। তবে পারিশ্রমিক আদায়ের জন্য আলাদা কোনো লোক না থাকায় বিভিন্ন নির্মাতা ও পরিচালকের কাছে তার পাওনা জমতে থাকে।
শোয়েবের ভাষ্য, ‘গলায় পাড়া দিয়ে টাকা উঠানোর কাজ করার মতো কেউ ছিল না। আমি কাজের আনন্দে কাজ করে যাই আর আমার ডিরেক্টর বন্ধুদের সাথে আনপেইড অ্যামাউন্টের পাহাড় জমতে থাকে।’
তার দাবি, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টিভিসি, ওভিসি, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমার বিভিন্ন কাজের পারিশ্রমিক মিলিয়ে তার ৫০ লাখ টাকার বেশি পাওনা রয়েছে।
বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথাও জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। তিনি জানান, সম্প্রতি স্টুডিও আপগ্রেডের খরচের পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে তাকে। এসব খরচ মেটাতে মায়ের জমানো টাকা ও সঞ্চয়পত্র ভাঙতে হচ্ছে।
শোয়েব লিখেছেন, ‘অথচ কিছুদিন আগে আমার স্টুডিও আপগ্রেড এবং এখন আমার চিকিৎসা ব্যয়ের খরচ চালাতে হচ্ছে আমার মায়ের জমানো টাকা দিয়ে, সঞ্চয়পত্র ভেঙে।’
দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতাকে সংগীত ও বিনোদন অঙ্গনে শিল্পীদের প্রতি আচরণের একটি উদাহরণ হিসেবেও দেখছেন তিনি। শোয়েবের কথায়, ‘কী বীভৎস বাস্তবতায় এটা ইন্ডাস্ট্রি তার ট্যালেন্টদের রাখে, এই হচ্ছে তার নমুনা।’
তবে পোস্টে এখনই কারও নাম প্রকাশ করেননি শোয়েব। যাদের কাছে তার টাকা পাওনা রয়েছে, তাদের নিজেদের হিসাব যাচাই করে বকেয়া পরিশোধের সুযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই পোস্টে কাউকে এখনই মেনশন করছি না। এই সুযোগটা আমি আপনাদেরকে দিচ্ছি। এই মাসটা সময় দিচ্ছি আপনাদের। ধুলো পড়া ফাইলগুলো বের করে হালনাগাদ করে অক্টোবরের শুরুতে স্টুডিওতে চা খেয়ে যান, আর টাকাগুলো সসম্মানে পরিশোধ করে যান।’
পাওনা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় প্রকাশ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই শিল্পী। শোয়েবের ভাষ্য, ‘আমার দীর্ঘ লেখা পড়ার পরেও যদি আপনাদের টনক না নড়ে, তাহলে আরকি, নিজেদের ইমেজের যে রঙিন লুঙ্গি সেটা ত্যানা বানিয়ে দিবো। খোদার কসম! পারলে সামলায়েন।’
রাশিদ শরীফ শোয়েব বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে দক্ষতার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সংগীতেও কাজ করেছেন। ‘হাওয়া’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘রইদ’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় সংগীত করেছেন তিনি। তার কণ্ঠেও প্রকাশ পেয়েছে একাধিক গান।

বিনোদন ডেস্ক