ইরানকে বাগে আনতে নৌ-অবরোধ দিয়ে ঝুঁকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধ এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যেই ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তাদের অবরোধ ভেঙে এখন পর্যন্ত একটি জাহাজও পার হতে পারেনি। খবর আলজাজিরার।
গত ২৪ ঘণ্টায় একটি জাহাজ অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও সেন্টকম তা নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, জাহাজটি কেবল হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরেছিল, কিন্তু মূল অবরোধের মুখে পড়ে বর্তমানে সেটি মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে আছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা এখন পর্যন্ত অন্তত ৬টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে। মার্কিন নির্দেশ পাওয়ামাত্রই জাহাজগুলো পিছু হটেছে।
বিশাল সামরিক আয়োজন ও ব্যয়
এই অবরোধ সফল করতে বিশাল বাহিনী মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য (মেরিন, সৈন্য ও বিমানসেনা) মোতায়েন রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে যেমন বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তেমনি এর কূটনৈতিক মূল্যও অনেক বেশি।
চীনের ওপর প্রভাব ও কৌশলগত ঝুঁকি
মার্কিন এই পদক্ষেপের অন্যতম বড় লক্ষ্য চীনকে চাপে ফেলা। উল্লেখ্য, চীন হলো ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মেটানো হয় ইরানি তেল দিয়ে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে চীনে জ্বালানি সংকট প্রকট হবে। প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিস্থিতি কি চীনকে বাধ্য করবে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য চাপ দিতে, নাকি বেইজিং উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নতুন কোনো সংঘাতের পথ বেছে নেবে?
বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অবরোধ যত দীর্ঘ হবে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার তত বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। এর প্রভাব কেবল আন্তর্জাতিক বাজারে নয়, বরং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে বিশাল সামরিক ব্যয় এবং অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম- এই দুইয়ের চাপে পড়ে ওয়াশিংটনের এই ‘জুয়া খেলা’ হিতে বিপরীত হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক