যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটলে ‘শেষ হতে পারে’ ইরান যুদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্ভবত আমেরিকার পিছু হটার মাধ্যমে শেষ হতে চলেছে। ভয়াবহ পরিণতি ও দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক বিপর্যয় এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মোসাদ পরিচালক ডেভিড বারনিয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি ‘শিরচ্ছেদমূলক আঘাত’-এর পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। লক্ষ্য ছিল আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো ও পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে সেখানে একটি নমনীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
ট্রাম্প সম্ভবত ভেবেছিলেন ইরানও ভেনিজুয়েলার মতো (যেখানে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন অভিযানে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়) নমনীয় হবে। কিন্তু ইরান প্রযুক্তিগত, সাংস্কৃতিক ও সামরিকভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় এই হিসাব মেলেনি।
যুদ্ধের দুই মাস পরেও ইরানি সরকার বা আইআরজিসি বিভক্ত হয়নি, বরং অভ্যন্তরীণভাবে আরও সুসংহত হয়েছে।
ইরানের সাফল্যের চারটি প্রধান কারণ
১. সভ্যতার শক্তি : পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস ও গভীর সংস্কৃতির অধিকারী ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ধমক বা বোমাবর্ষণের কাছে নতি স্বীকার করেনি।
২. প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ : ৪০ বছরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দেশীয় ড্রোন শিল্প ও কক্ষপথ থেকে উপগ্রহ উৎক্ষেপণ ক্ষমতাসহ একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
৩. পরিবর্তিত সামরিক প্রযুক্তি : ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন (২০ হাজার ডলার) ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিপরীতে মার্কিন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের (৪০ লাখ ডলার) আকাশচুম্বী খরচ যুদ্ধটিকে আমেরিকার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অসহনীয় করে তুলেছে।
৪. অযৌক্তিক মার্কিন নীতিনির্ধারণ : মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের একটি ক্ষুদ্র অনুগত গোষ্ঠীর দ্বারা এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তঃসংস্থা প্রক্রিয়া ছিল না।
এই যুদ্ধের ফলে তিনটি নতুন বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। ইরানের সামরিক ও প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটলেও ইরান তার প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে এই সুবিধাকে অপব্যবহার করবে না বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের মতো বৃহৎ শক্তির প্রভাব ও নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের কারণে ইরান স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী হবে। শেষ পর্যন্ত, আমেরিকান সাম্রাজ্য আর্থিক ও সামরিক মূল্যে ইরানের বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারছে না ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিতে ফিরে আসার সময় এসেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক