শপথের মঞ্চে পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন মোদি, কে এই মাখন লাল?
পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। আজ শনিবার (৯ মে) মঞ্চে উপস্থিত শিলিগুড়ির ৯৭ বছর বয়সী বিজেপি প্রবীণ নেতা মাখন লাল সরকারকে পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের জাননা, মাখন লাল সরকার ছিলেন দলের শুরুর দিনগুলোর অন্যতম বরিষ্ঠ নেতা। একই সঙ্গে জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সহযোগী। খবর এনডিটিভির।
আরও পড়ুন : জানা গেল দেশের আকাশে ‘রহস্যময় আলোর’ আসল কারণ
আরও পড়ুন : ভাঙল ৬২ বছরের প্রথা, যে কারণে আটকে আছে থালাপতির শপথ
মাখন লাল সরকার ১৯৫২ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাশ্মীর সফরের সঙ্গী ছিলেন। যেখানে ভারতীয় তেরঙা উত্তোলনের আন্দোলনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শমীক ভট্টাচার্য স্মরণ করেন, কাশ্মীর কারাগারে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার শেষ যাত্রারও সাক্ষী ছিলেন এই প্রবীণ নেতা। এছাড়া কংগ্রেস শাসনামলে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অপরাধে দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে ক্ষমা চাইতেও অস্বীকার করেছিলেন। এমনকি বিচারকের অনুরোধে তিনি এজলাসে পুনরায় সেই গানটি গেয়ে শুনিয়েছিলেন। যার ফলে বিচারক মুগ্ধ হয়ে তাকে সসম্মানে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন : মন্দিরের আদলে সাজল শুভেন্দুর শপথগ্রহণের মঞ্চ
আরও পড়ুন : শুভেন্দুর মঞ্চে আরও ৫ জনের শপথ, বিজেপির প্রথম মন্ত্রিসভায় কারা?
মাখন লাল সরকারের রাজনৈতিক জীবন ছিল ত্যাগে শিকারের। ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হওয়ার পর তিনি পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ১০ হাজার সদস্য সংগ্রহ করে দলকে শক্তিশালী করে তোলেন। ১৯৮১ সাল থেকে টানা সাত বছর তিনি শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। যা সেই সময়ের সাংগঠনিক নিয়মে ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক