ইরান সংকট সমাধান না হলে প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইএফপিআরআই) গবেষক অবিনাশ কিশোর। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ সংকট সত্ত্বেও ভারত সরকার এখন পর্যন্ত সার ও জ্বালানির দাম বাড়তে দেয়নি, বাড়তি খরচের বোঝা কৃষকদের ওপরও চাপানো হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি রোপণ মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে এই সংকটের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও অনুভূত হচ্ছে; বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বর্তমানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
গবেষক অবিনাশ কিশোরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারত, বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে এর সামগ্রিক বা সম্মিলিত প্রভাব। বর্তমানে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মুদ্রার মান ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে, যার ফলে ভোজ্য তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের আমদানিকৃত জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
মূলত মুদ্রা দুর্বল হওয়ার এই প্রবণতা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি ও গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বিনাশ কিশোর বলেন, ইরান সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে দক্ষিণ এশিয়ার এই সমস্যাগুলো আরও গুরুতর রূপ ধারণ করবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক