শীত উপভোগে উত্তরবঙ্গে
এখন শরৎ ঋতু। শীতের আনুষ্ঠানিক মৌসুম শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। ভোরের ঘন কুয়াশা, শীতল বাতাস আর মনোরম আবহাওয়া উপভোগ করতে হলে আসতে হবে তেঁতুলিয়ায়।
আর ভাগ্য ভালো হলে শীত উপভোগের পাশাপাশি দেখা মিলতে পারে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলোর অন্যতম কাঞ্চনজঙ্ঘার। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শীত ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসেন পর্যটকরা।
গত কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হচ্ছে কুয়াশা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন হচ্ছে কুয়াশার পরিমাণ, যা স্থায়ী হচ্ছে সকাল পর্যন্ত। কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে মাঠ-ঘাট, চা-বাগান ও জনপদ। সূর্যের আলো ফুটে উঠতেও সময় লাগছে কিছুটা বেশি। ফলে প্রকৃতিতে তৈরি হচ্ছে এক ভিন্ন আবহ, যা শীতের আগমনের বার্তা দিচ্ছে।
আগাম শীতের আবহ উপভোগ করতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা তেঁতুলিয়ায় আসতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে ভোরের কুয়াশা, সবুজ চা-বাগান এবং পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখার আশায় বাড়ছে দর্শনার্থীদের আগ্রহ।
তেঁতুলিয়ায় যাবেন কীভাবে
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও বিমান—তিন পথেই যাওয়া যায় তেঁতুলিয়ায়।
বিমানপথে যেতে হলে নামতে হবে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে। সেখান থেকে মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার কিংবা বাসে করে যাওয়া যাবে তেঁতুলিয়ায়।
রেলপথে ভ্রমণকারীদের নামতে হবে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে। সেখান থেকে অটোরিকশা, ইজিবাইক কিংবা বাসযোগে তেঁতুলিয়ায় যাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া সাধারণত প্রায় ১০০ টাকা।
সড়কপথে ঢাকা থেকে সরাসরি এসি ও নন-এসি কোচে তেঁতুলিয়া যাওয়া যায়। এসি স্লিপার কোচের ভাড়া ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকা এবং চেয়ার কোচের ভাড়া ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকার মধ্যে। রাতের বাসে যাত্রা করলে সকালে পৌঁছে যাওয়া যায় তেঁতুলিয়ায়।
তেঁতুলিয়ায় থাকবেন যেখানে
তেঁতুলিয়া বাজারের এক কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও অতিথিশালা। এছাড়া সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সেসব ক্ষেত্রে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা বুকিং প্রয়োজন হয়।
বেসরকারি আবাসিক হোটেলগুলোতে বাজেট অনুযায়ী কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার অধিকাংশ হোটেল আগাম বুকিং হয়ে যায়। ফলে অনেক পর্যটক শেষ মুহূর্তে কক্ষ না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। তাই এ সময়ে তেঁতুলিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই আবাসনের বুকিং নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও যা দেখবেন
তেঁতুলিয়ায় আসা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘা হলেও এখানকার দর্শনীয় স্থান শুধু এটিতেই সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্ত এলাকা বাংলাবান্ধা ঘুরে দেখতে পারেন পর্যটকরা। এখানে রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থলবন্দর, যার মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এছাড়া মহানন্দা নদীতে নুড়ি-পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। দেশের একমাত্র সমতলভূমির চা-বাগানগুলো অবস্থিত পঞ্চগড়ে। সবুজে ঘেরা এসব চা-বাগানে ঘুরে কাটানো যায় দারুণ কিছু সময়।
তেঁতুলিয়ার মহানন্দা পার্ক থেকেও অনুকূল আবহাওয়ায় দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। পাশাপাশি কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের ব্যক্তিমালিকানাধীন ‘আনন্দধারা’ রিসোর্টও পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্র। কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সেখানে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।
শীতের আগাম আমেজ, কুয়াশায় মোড়া সকাল, চা-বাগানের সবুজ প্রকৃতি আর দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা—সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের শীত উপভোগের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠে

রবিউল ইসলাম, পঞ্চগড় (তেঁতুলিয়া)