বিএডব্লিউএলএম গঠনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশে ওয়েলনেস ও লাইফস্টাইল মেডিসিনের বিকাশ, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সমন্বয়, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলনেস অ্যান্ড লাইফস্টাইল মেডিসিন (বিএডব্লিউএলএম) গঠন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টার (সি আই সি সি)-এর এ টি এম শামসুল হক অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মুজাহারুল হক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাদরুল আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ড. জালালউদ্দিন রুমি, জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. অনুপম হোসেন এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের প্রচার সম্পাদক মমিনুল ইসলাম (নির্ঝর)। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আরও বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মজিবুল হক। তিনি তাঁর মূল প্রবন্ধে ‘বাংলাদেশে ওয়েলনেস ও লাইফস্টাইল মেডিসিনের বর্তমান প্রেক্ষাপট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা’ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মজিবুল হক বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে লাইফস্টাইল মেডিসিন, বৈজ্ঞানিক পুষ্টিবিজ্ঞান, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতির গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশেও এ খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য একটি শক্তিশালী জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ওয়েলনেস ও লাইফস্টাইল মেডিসিনের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের এখনই উপযুক্ত সময়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলনেস অ্যান্ড লাইফস্টাইল মেডিসিন চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ, গবেষক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কাঠামো, সদস্যপদ, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেন। এসব সুপারিশ সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক