দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
নিজেদের পেশাগত ৬ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে রাজধানীসহ দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
দাবি আদায়ে আজ সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (এসএসএমসি) ও মিটফোর্ড হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এছাড়া দেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নবীন চিকিৎসকদের এই আন্দোলনের কারণে সব ধরনের শিক্ষা ও সাধারণ চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (৬ জুন) বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের এক বিবৃতিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের প্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসকদের প্রতি সংঘটিত বিভিন্ন অন্যায় ও বৈষম্যের প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল রোববার (৭ জুন) থেকে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়। একই সঙ্গে দেশের সব মেডিকেল কলেজের প্রথম থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বেলা ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সব মিডলেভেল চিকিৎসককেও এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আরও জানান, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে আমাদের ছয়টি দাবির মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হলেও, বাকি দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চরম হতাশ হয়েছেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো-
১. এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির বিতর্কিত প্রস্তাবনা বাতিল করা।
২. বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এবং বিসিপিএস ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা।
৩. নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডে নির্ধারণ করা।
৪. কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করা।
৫. বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা।
৬. বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য শ্রম আইন ২০০৬ মেনে সুস্পষ্ট ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা।
সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এই আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে সাধারণ ও বহির্বিভাগের চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে মিডলেভেল ও সিনিয়র চিকিৎসকদের দিয়ে সেবা সচল রাখার চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক