কানপাকা রোগে কী করবেন
কানপাকা রোগ থেকে কান বধিরও হয়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৫৬১তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. মনিলাল আইচ লিটু। বর্তমানে তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নাক কান গলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : অনেকে মনে করেন, কানে পানি গেলে কান পাকে। এর ভিত্তি কতখানি?
উত্তর : কানের ভেতর যদি পানি যায়, ভেতরে তো যেতে পারছে না। কিন্তু ঘটনা যেটি ঘটে, ওই ব্যক্তি যদি বেশি সময় ধরে গোসল করে বা ডুব দেয়, তখন তার ঠান্ডা লেগে যায়। তার আপার রেসপেরেটোরি সমস্যা হয়, সেখান থেকে কান পাকতে পারে। কিন্তু কানের বাইরে থেকে ভেতরে গিয়ে পাকাতে পারবে না। বহিঃকর্ণের প্রদাহ হতে পারে। ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। এ জন্য সাঁতারু যারা, তাদের মধ্যে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের হার অনেক বেশি।
প্রশ্ন : যাদের বেলায় ফাঙ্গাল ইনফেকশন আগে থেকে আছে, সেখানে যদি কানের মধ্যে পানি যায়, ময়লা পানি, নদী-পুকুরের জীবাণুযুক্ত পানি ঢোকে, তাহলে এই সংক্রমণ আরো বেড়ে যেতে পারে। সেখান থেকেও পর্দা ফুটো হয়ে যাওয়ার একটি ভয় থাকে। এটা রোধ করার জন্য আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর : কোনো তেল দিয়ে ভিজিয়ে এই তুলা আপনি চিপড়ে নেবেন। তার পর কানের বাইরের দিকে লাগিয়ে দিয়ে ডুব দিয়ে গোসল করতে পারেন, যাতে কানের ভেতর কোনো অবস্থাতেই ময়লা পানি বা পানি না যায়। যদি ময়লা হয় তাহলে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে। তার সঙ্গে কানে স্বাভাবিকভাবে কিছু পরিমাণ ফাঙ্গাস থাকে। ক্যানডিডা বা এসপারজিলাস থাকে। এগুলো সামনে আসতে পারে যদি পানি কানে যায়। ইনফেকশন বেড়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন : যদি কারো কানপাকা রোগ হয়, তাহলে করণীয় কী?
উত্তর : কানপাকা রোগ হলে আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। দেখতে হবে কোন পর্যায়ে আছে। কানের ড্রপ, নাকে আমরা ড্রপ দিই এবং অ্যান্টিহিস্টামিন দিয়ে আমরা কানকে শুকাই। অর্থাৎ কানে যে ইনফেকশন আছে, অ্যাকটিভ যে সিক্রেশন আছে, যে কান থেকে পুঁজ পড়ছে বা পানি পড়ছে, তাহলে একে আমরা বন্ধ করি। এরপর আমরা কানের পর্দার যে ফুটা থাকে, এটা যদি এমনি একটু ঠিক করলে হয়, তাহলে সার্জিক্যালই মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে এটা ঠিক করে দিই। আর যদি ভেতরে কোনো কাজ করতে হয়, ধরেন মধ্যকর্ণ, তাহলে আমরা মাস্টারেক্টোমি করি, সঙ্গে পর্দা ঠিক করি।
প্রশ্ন : যদি কানে কানপাকা রোগ হয় এবং এটা দীর্ঘমেয়াদি থাকে, তাহলে এটা জটিল অবস্থা, বিশেষ করে আরো নির্দিষ্ট করে বললে, বধিরতা একদমই কানে শুনবে না, সেটার আশঙ্কা আছে কী?
উত্তর : আসলে এর পরিণতিও হচ্ছে এটা। শুধু যে বধিরতা তা নয়, এটা থেকে তার জীবনঘাতী হতে পারে। মস্তিষ্কের যে টিস্যু বা কান এর মধ্যে পাতলা একটি হাড় থাকে, এটা ভেদ করে সংক্রমণ মস্তিষ্কে চলে যায়। এটা খুব জটিল অবস্থা। সেটা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কারণ, এটি খুব জটিল অবস্থা।

ফিচার ডেস্ক