মুখের ঘা কেন হয়?
বিভিন্ন কারণে মুখে ঘা হতে পারে। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৪৭২তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. সাইফুল আজম রনজু। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেমাস সার্জারি বিভাগে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : মুখের ঘা হওয়ার কারণ কী?
উত্তর : মুখের ঘায়ের জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। এরপরও কিছু বিষয় থাকে। যেমন : কারো যদি শরীরে কিছু ঘাটতি থাকে তাহলে হতে পারে। অনেক সময় আয়রনের ঘাটতি থাকলে অথবা জিংকের ঘাটতি থাকলে অথবা কারো যদি কোনো ধরনের রোগ থাকে, যেমন ডায়াবেটিস মেলাইটাস- এদের ঘা হতে পারে। এ ছাড়া মুখে যদি কারো সার্প টিথ (তীক্ষ্ণ কোনো দাঁতের অংশ) থাকে সেটির আঘাতে ক্ষত হতে পারে। শরীরে যদি কোনো কিছুর অভাব হয়ে থাকে তবে অ্যাপথাস আলাসার ঘা হয়। আর সবচেয়ে বেশি যেটি মারাত্মক, সেটি হলো মুখের ক্যানসার।
প্রশ্ন : খুব সাধারণ ঘা যেগুলো নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে তীব্র ব্যথা বা কষ্টদায়ক হয়, এই ঘাগুলো কীভাবে চিহ্নিত করেন।
উত্তর : কিছু কিছু ঘা যেমন ধরুন এই অ্যাপথাস আলসার, সাত থেকে ১০ দিন থাকে আবার এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। আবার কিছু ঘা হয়, যদি কোনো তীক্ষ্ণ দাঁত থাকে এসবের আঘাতে। এই কারণগুলো যদি ঠিক করে দেওয়া হয়, ঘা এমনিতেই চলে যায়।
আবার কিছু কিছু ঘা অনেকদিন ধরে থাকে, যেমন কারো যদি ডায়াবেটিস মেলাইটাস থাকে, বা অনেক নারীদের পোস্ট মেনোপোজাল সময়, যেটা সাধারণত ৪৫-এর পরে হয়, সেটার পর হয়ে থাকে। কিছু কিছু ঘা নিয়ে রোগীরা আমাদের চেম্বারে আসে, দেখা যায়, তাদের ঘা হরমোনের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে। রোগীরা অভিযোগ করে, মুখে কেমন সাদা সাদা হয়, মুখ জ্বলতে থাকে। রোগী বলে, আমি কিছু খেতে পারি না। তখন তাদের রক্তের পরীক্ষা দেখে দেখি কোনো কিছুর অভাব আছে কি না। সেই ক্ষেত্রে ঘাটতি অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রশ্ন : অ্যাপথাস আলসার কীভাবে বোঝা যাবে।
উত্তর : এসব রোগীরা এসে বলে আমার মুখে বিভিন্ন জায়গায় ঘা হয়। একেক সময় একেক জায়গায় ঘা হয়। এমনিতেই আবার ঠিক হয়ে যায়। আবার আরেক জায়গায় হয়। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় হয়। বিশেষ করে কেউ যদি কখনো দুশ্চিন্তায় থাকে, বিশেষ করে তরুণ বয়সে, পরীক্ষা থাকলে খুব চিন্তিত থাকে। তখন সেটি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় ব্রাশ করতে গিয়ে যদি ব্রাশের খোঁচা লেগে যায়, তাহলে এটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার কারো যদি শরীরে কোনো অভাব থাকে, ভিটামিন এ-এর অভাব থাকে, পুষ্টির যদি অভাব থাকে, তাহলে এমন হতে পারে।
প্রশ্ন : সেক্ষেত্রে এর চিকিৎসা কীভাবে করেন।
উত্তর : এর চিকিৎসা হলো প্রথমে তাকে নিশ্চিত করা যে এতে তার ভয়ের কোনো কারণ নেই বা এটি থেকে খারাপ কিছু হবে না, আরো যদি কোনো অভাব থাকে, সে ক্ষেত্রে সেটি ঠিক করার জন্য সাপ্লিমেন্টারি ওষুধ দিয়ে থাকি।
প্রশ্ন : মুখের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে কি এর কোনো সম্পর্ক আছে?
উত্তর : হ্যাঁ, এটির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। কারণ, এটি থেকে যেন খারাপ কিছু না হয়, সে জন্য মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাটা মেনে চলা খুবই দরকার, যাতে জটিলতা না আসে।
প্রশ্ন : এ ছাড়া আরেকটি ঘায়ের কথা বলছিলেন সার্প টিথের জন্য হয়? এর ক্ষেত্রে কী করণীয়।
উত্তর : যদি এ রকম দাঁতের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে যদি সমান করে দিই, সেই ক্ষেত্রে ঠিক হয়ে যায়। অথবা যদি ভাঙা দাঁতের কারণে হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ভাঙা দাঁতগুলো মুখ থেকে বের করে দেওয়াই ভালো। আর যদি কেউ ডেনচার ব্যবহার করে বা আলগা দাঁত ব্যবহার করে, এই ডেনচারের আঘাতে অনেক সময় এই ঘা হয়ে থাকে। তখন এটা মসৃণ করে দিলে ঠিক হয়ে যায়।

ফিচার ডেস্ক