দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ কমাতে করণীয়
দুর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক চাপ কমাতে প্রয়োজন কথা বলা। এ ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং করা যেতে পারে। কগনেটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি) ইএমডিআর এর ভালো চিকিৎসা।
এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৭৩১তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট কামরুজ্জামান মজুমদার। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : এই ক্ষেত্রে কী করণীয়?
উত্তর : পিটিএসডির জন্য মূলত প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা। আমরা যেই চিকিৎসাটি করি একে সিবিটি বলি, কগনেটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি। এটি খুবই কার্যকর। আরো কিছু চিকিৎসা আছে, যেমন ইএমডিআর। আরো বেশ কিছু চিকিৎসা রয়েছে। তবে সিবিটি খুবই ভালো কাজ করে। ইএমডিআরও বেশ ভালো কাজ করে। সিবিটিতে যেটি করা হয়, ব্যক্তিকে বুঝতে সাহায্য করা হয়, সে যেটা ভাবছে যে ওই ঘটনাটি আবার ঘটছে, আসলে সেটি সত্যি নয়। এটা তার একটি ভীতি। ভীতি হলে বিষয়টি অনেকটা এই রকম, আমি যদি ভাবি আমার সামনে একটি সাপ আছে, আমার প্রতিক্রিয়া কিন্তু ভয়ের। প্লাস্টিকের সাপ দেখলেও কিন্তু বিষয়গুলো একই রকম হবে। আমি যদি বুঝতে পারি সাপটি আসলে প্লাস্টিকের, তাহলে কিন্তু ভয় চলে যাবে। তাদের আমরা এটিই করাই। তার ভয়টা তো হচ্ছে। তবে ভয়টা যা দেখে হচ্ছে সেটি কিন্তু আসল নয়।
আমার হয়তো ছিনতাই হলো। ছিনতাই যে করতে এসেছিল, সে একটি লাল রঙের জামা পরা ছিল। এখন কেউ লাল পোশাক পরলে হয়তো মনে হয় এই লোকটি কি ছিনতাইকারী? এই লোক কি আমাকে ধরতে আসছে? এই ভয়টা তৈরি হয়ে যায়। যদি তাকে দেখানো যায়, এই লোকটি সেই লোকটি নয়, তাহলে ভালো হয়। একপর্যায়ে ব্যক্তি বুঝতে পারে যে লাল রং হওয়া মানে ছিনতাই হওয়া নয়।
ওই ঘটনা ওখানেই শেষ। অতিত ও বর্তমানের মধ্যে পার্থক্য করতে তাকে সাহায্য করা হয়। সেটি ছিল অতীত। তবে বর্তমানটা আলাদা। একই রকম মনে হতে পারে। তবে এক নয়।
আমরা আরেকটি কাজ করি। যখন তার ব্যথা হয়, তার তীব্র কষ্ট হয়। ওই কষ্টের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য শিথিলায়নের কিছু প্রক্রিয়া আছে। দুশ্চিন্তা হলে কিছু বিষয় করা হয়। গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, মাসকুলার রিলাক্সেশন করা। এগুলো তাকে সাহায্য করে শান্ত রাখতে এবং এগুলো চাপের সঙ্গে সমন্বয় করতে সাহায্য করে।
আরেকটি জায়গা হলো পরিবারের লোকদেরও শিখাই যে কীভাবে, তাকে সাহায্য করা যায়। তার কথাগুলো যখন সে বলবে তাকে বকা না দিয়ে তাকে সাহায্য করতে হবে।
পরিবারের লোকদের যখন সে এসব কথা বলে তারা হয়তো বলে, ‘তুই আবার শুরু করলি এগুলো।’ এজন্য তোর এই অবস্থা।’ তবে এটি না করে, তাকে বকা না দিয়ে কথাগুলো শুনলে কিন্তু হালকা হওয়া যায়।
আরেকটি বিষয় আছে আমাদের কেউ যদি কোনো অবস্থার শিকার হয়, ধরুন বাসায় যদি চোর আসে, তখন আশপাশের লোক এসে বলা শুরু করে, ‘তুমি দরজা খোলা রেখেছিলে কেন?’ ভাবটা এমন যে আমার দোষেই চুরি হয়েছে। আমিই বুঝি চোর।
পিটিএসডি যখন হলো, ধরুন একটি মেয়ে যখন ধর্ষিত হয় তখন তাকে আঙ্গুল তোলা হলো, ‘তোমার তো এ রকম হয়েছে। তুমি এমন করেছ বলেই তোমার এটি হয়েছে। তোমার দোষ এটি।’ এ বিষয়গুলো চাপ আরো বাড়িয়ে দেয়। এতে পিটিএসডি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
প্রশ্ন : চিকিৎসা বা কাউন্সিলের সময়টি কতদিন?
উত্তর : সিবিটির যে আদর্শ প্যাকেজ সেখানে ১০ থেকে ১২টি সেশন যেকোনো সমস্যার ক্ষেত্রে লাগে। তীব্রতা অনুসারে কারো কারো ক্ষেত্রে সেশনের পরিমাণ বাড়তে পারে। কারো ক্ষেত্রে একটু কম লাগতে পারে। পিটিএসডিতে যেটি হয় ট্রমার সঙ্গে অন্য অন্য কিছু চাপমূলক ঘটনাও যুক্ত হয়ে যায়। তখন অনেক্ষণ মন খুলে কথা বলতে হয়। এতে সময়টা একটু বেশি লাগে।
ব্যক্তিতো এই চাপটি কাউকে বলতে পারে না, যখন সে মন খুলে কথা বলতে পারে সেই অনুভূতিটা তাকে আসলেই সাহায্য করে।

ফিচার ডেস্ক