ভিটামিন ডি কোন খাবারে পাবেন?
ভিটামিন ডি বিভিন্ন খাবারে আছে। তবে আমাদের দেশের খাবারে খুব কম পরিমাণ এটি পাওয়া যায়। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৫৯৭তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। বর্তমানে তিনি স্কয়ার হসপিটালের মেডিসিন বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : অনেক খাবারে তো আমরা দেখতে পাই ভিটামিন ডি আছে। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী? আর কোন কোন খাবারে এগুলো থাকা উচিত?
উত্তর : দেখুন আমাদের দেশে প্রচলিত খাবারে ভিটামিন ডি নেই। শুধু যেই খাবারগুলো সামুদ্রিক মাছ যেমন স্যামন, টোনা, ম্যাকরেল, সারডিনস এগুলো আমরা তো পাচ্ছি না। সুতরাং অন্য খাবারগুলোতে দেখুন একটি ডিমের মধ্যে মাত্র ৬০ ইউনিট থাকে। এক গ্লাস দুধের মধ্যে আপনি পাচ্ছেন মাত্র ১০০ ইউনিট। কিন্তু আপনার প্রয়োজন ৮০০ ইউনিট প্রতিদিন। সবগুলো মিলিয়ে আমাদের ধারণা একজন মানুষ ২০০ থেকে ৩০০ পায়। বাকিটা কিন্তু অভাব। বিদেশে যেটা হয় সরকার থেকে বলা থাকে তুমি খাবার তৈরি করবে, ভিটামিন ডি যোগ করে দেবে। আমাদের দেশেও সরকারের এবং সবার চিন্তা-ভাবনার সময় চলে আসছে। আমরা যেহেতু ওই খাবারগুলো পাচ্ছি না এবং ভিটামিন ডি-র সঙ্গে অনেকগুলো রোগ জড়িত, সুতরাং খাদ্যে ফরটিফিকেশন দরকার ভিটামিন ডি দিয়ে, যেরকম আমরা লবণ এখন আয়োডিন করছি। আমরা জানতাম এর অভাবে গলগণ্ড রোগ হতো। ঠিক আমাদের খাবারের মধ্যে, যারা খাবার তৈরি করে তাদের ভিটামিন ডি যোগ করা উচিত। সরকার ও রাজনৈতিক সচেতনতা দরকার যে আমাদের খাবারে ভিটামিন ডি ফরটিফাইট যোগ করো। আমাদের দুধের সঙ্গে, সিরিয়ালের সঙ্গে যোগ করে দিতে পারে।
তবে আমি বলব যারা সূর্যের বেগুনি রশ্মি সংবেদনশীল নন, সূর্যের আলোতে যান। দেখবেন অনেক ভালো বোধ করবেন এবং এই যে সমস্যাটা এটা থেকে আপনি বেঁচে যাবেন।
সুইডেনভিত্তিক ভিটামিন ডি একটি কাউন্সেল আছে, তারা চেষ্টা করছে ২ নভেম্বরকে ভিটামিন ডি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সারা দুনিয়ার বিভিন্ন অংশে ভিটামিন ডি নিয়ে গবেষণা চলছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ভিটামিন ডি একটি হরমোন।

ফিচার ডেস্ক