ইরানের স্থলপথেও অবরোধ জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সামরিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ বন্ধ করতে স্থলপথেও অবরোধ জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর মাধ্যমে ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান নৌ অবরোধের পাশাপাশি স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরেও নজরদারি বাড়ানো হবে। খবর আল জাজিরার।
স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) সেন্টকম জানায়, ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামে নতুন ইউনিটটি ইরানের স্থলপথে উন্নত অস্ত্র ও অন্যান্য উপকরণ পরিবহন ঠেকাতে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায় এর সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, সমুদ্রে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধের সাফল্য আরও জোরদার করবে এই টাস্কফোর্স। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এটি উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, দ্বৈত ব্যবহারের প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন পণ্য এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে কাজ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন উপসহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আল জাজিরাকে বলেন, ইরানে কোথা দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ করছে, কীভাবে তা বন্ধ করা যায় এবং দেশটি কীভাবে জ্বালানি পরিবহন করছে, এসব বিষয় চিহ্নিত করাই হবে টাস্কফোর্সের কাজ।
তার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার নির্দেশ দিলে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় হামলা হতে পারে। এর লক্ষ্য হবে ইরানের যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা ও অর্থের উৎস দুর্বল করা।
এদিকে, ইরানের বন্দর অবরোধের অংশ হিসেবে ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজ অচল করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সেন্টকম।
তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, সেন্ট কিটসের পতাকাবাহী ‘এমভি হুদা’ জাহাজটির পেছনের অংশে নির্ভুল নিশানার অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বিমান। এর আগে জাহাজের কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারিত স্থান ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সেন্টকম জানিয়েছে, জুলাই থেকে অবরোধ কার্যকর করতে গিয়ে ১৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে মার্কিন বাহিনী। নির্দেশ অমান্য করায় পাঁচটি জাহাজ অচলও করা হয়েছে।
শনিবার হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। একই সঙ্গে জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এর আগের দিন কেশম দ্বীপে নতুন করে হামলার কথা স্বীকার করেন ট্রাম্প। তবে হামলাকে ‘সামান্য’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় ইরান এখনও চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার সাগরে স্থাপিত মাইনে আঘাত লেগেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, জাহাজ দুটি নৌ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। মাইনে আঘাতের পর সেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থেমে যায়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক