মাটির নিচে হারানো ১৬০০ বছরের পুরোনো বাইজেন্টাইন শহর কেমন ছিল
আমাদের পায়ের নিচে লুকিয়ে রয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস। সময়ের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এমনই এক ১৬০০ বছরের পুরোনো বাইজেন্টাইন আমলের প্রাচীন শহরের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এই প্রাচীন শহরটির আবিষ্কার আমাদের সামনে উন্মোচন করেছে সেকালের মানুষের চমৎকার জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির নানা অজানা অধ্যায়।
প্রাচীন সভ্যতার নান্দনিক রূপ ও অবকাঠামো
মিশরের দাকলা মরুদ্যানের পশ্চিম মরুভূমির গভীরে মাটির নিচে এই প্রাচীন বসতির সন্ধান মিলেছে। ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, চতুর্থ শতাব্দীর এই শহরটি বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের উন্নত স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। কাদামাটির ইট দিয়ে তৈরি এই শহরে সুবিন্যস্ত রাস্তার গ্রিড, আবাসিক কোয়ার্টার, পাহারা দেওয়ার জন্য ওয়াচ টাওয়ার এবং সুরক্ষিত দেওয়াল রয়েছে। এছাড়া শহরের ঠিক মাথায় একটি বিশাল ব্যাসিলিকা বা প্রাচীন গির্জা রয়েছে, যা সেসময়ের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের গভীর প্রভাব ফুটিয়ে তোলে।
কেমন ছিল ১৬০০ বছর আগের নগরজীবন?
এই ভূগর্ভস্থ বা প্রাচীন শহরটি কেবল সাধারণ কোনো জনবসতি ছিল না; এটি ছিল একটি সুসংগঠিত ও কর্মমুখর জনপদ। সেকালের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও রান্নার কাজের নানা নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রুটি তৈরির চুলা, রান্নাঘর, পাথর ভাঙার বা শস্য পেষার যন্ত্র এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব উপকরণ দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, সেকালের মানুষ খাদ্য উৎপাদন, বাণিজ্য এবং নিজেদের সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিল।
মুদ্রা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
শহরটির হারানো ইতিহাস সম্পর্কে জানতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা ও প্রত্নবস্তু উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে বাইজেন্টাইন সম্রাটদের অবয়ব খচিত ব্রোঞ্জের মুদ্রা এবং সম্রাট কনস্টান্টিয়াস দ্বিতীয়-এর আমলের সোনা ও ল্যাটিন শিলালিপির সন্ধান মিলেছে। গবেষকদের মতে, এই মুদ্রাগুলোর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে বেশ সক্রিয় ছিল এবং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের বিস্ময়
দীর্ঘকাল মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকার পরও শহরের বহু প্রাচীন অবকাঠামো এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র অবাক করার মতো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদরা এই হারানো শহরের প্রতিটি পঙক্তিতে লুকিয়ে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে বাইজেন্টাইন আমলের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের অজানা অনেক অধ্যায় সামনে নিয়ে আসছেন। এই আবিষ্কার প্রাচীন পৃথিবীর নগর পরিকল্পনা ও মানব সভ্যতার টিকে থাকার লড়াইকে নতুনভাবে বুঝতে সাহায্য করছে।
তথ্যসূত্র: মিশরের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, ইতিহাসভিত্তিক প্রকাশনা ‘স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন’ও ‘হেরিটেজ ডেইলি’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক