ক্ষেপণাস্ত্রের সীমার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ইরান
পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর নিজেদের আরোপ করা দুই হাজার কিলোমিটারের (১২০০ মাইল) সীমাবদ্ধতা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর মাধ্যমে দেশটি আরও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথ উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছে। খবর এপি ও টাইমস অব ইসরায়েলের।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি বক্তব্যের পরপরই আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো। সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের ও যেকোনো মাত্রার হুমকির মুখোমুখি হলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তার জবাব দেওয়া হবে।
তেহরানে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষেপণাস্ত্রের সীমার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মোহেব্বি বলেন, সেই বিধিনিষেধ আমাদের জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা কেবল মুখে কথা না বলে বাস্তবে এই সক্ষমতার প্রমাণ তুলে ধরব। তবে বর্তমানে এই সীমা অতিক্রম করতে সক্ষম কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের হাতে আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আগ্রাসনের আওতায় আসা ভৌগোলিক অঞ্চল
এতদিন দুই হাজার কিলোমিটার সীমার মধ্যে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দিয়েই ইরান গ্রিসের কিছু অংশ, বলকান অঞ্চল, পুরো আরব উপদ্বীপ, লেভান্ট ও মিসরের বেশিরভাগ অংশে আঘাত হানতে সক্ষম ছিল। সীমা তুলে নেওয়ায় এর বাইরের অঞ্চলগুলোও তেহরানের কৌশলী লক্ষ্যবস্তুর আওতায় আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দুই হাজার কিলোমিটারের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখার দাবি করলেও চলতি বছরের গত মার্চে ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ মার্কিন-যুক্তরাজ্য সামরিক ঘাঁটি ‘দিয়েগো গার্সিয়া’য় হামলা চালানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল বলে জানা যায়- যার দূরত্ব ইরান থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার (২৫০০ মাইল)।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা মোটেও কঠিন কিছু নয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক