সিনেটর নির্বাচিত হয়েই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এল-সায়েদের
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পরপরই ইসরায়েল বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন ড. আব্দুল এল-সায়েদ। চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে সমর্থন জানালেও, একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
মার্কিন জাতীয় বেতার সংস্থা এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. এল-সায়েদ বলেন, একটি নষ্ট ঘড়িও দিনে দুইবার সঠিক সময় দেয়। এই প্রবাদ বাক্য ব্যবহার করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ট্রাম্পের সব নীতি সঠিক না হলেও ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের এই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তটিতে তিনি সঠিক পথেই রয়েছেন।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুরোধেই তিনি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও আগের চুক্তি অনুযায়ী এই সহায়তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা ছিল। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরায়েল এখন আর এই সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। এছাড়া এই পদক্ষেপের ফলে এল-সায়েদের মতো ডেমোক্র্যাট নেতারা ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়া নিয়ে আর সমালোচনা করার সুযোগ পাবেন না।
তবে মিশিগানের এই নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর মনে করেন, শুধু সহায়তা বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েলের কাছে সমস্ত মার্কিন অস্ত্র বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জোরালো দাবি জানান। তিনি বলেন, যেসব অস্ত্র ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন, বর্ণবাদ এবং জঘন্য অপরাধ চালানো হয়, সেগুলোর বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। আমেরিকার জনগণের কষ্টের উপার্জিত অর্থ বিদেশে যুদ্ধ বা সংঘাতের পেছনে না খাইয়ে দেশের ভেতরেই মৌলিক প্রয়োজনে বিনিয়োগ করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে নির্বাচনে জয়ী হওয়া ড. এল-সায়েদ ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয় জাতির জন্যই সমান অধিকার, শান্তি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র মুখে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ কথা বললেও গোপনে যারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ চিরতরে বন্ধ করতে চায়, তাদেরকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে মদদ জুগিয়ে গেছে।
এছাড়া জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন এল-সায়েদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিশ্বের অন্য দশটি সাধারণ দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে আচরণ করে, ইসরায়েলের সঙ্গেও ঠিক তেমনি সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ আচরণ করা উচিত।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক