ইরানের একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ, হামলায় অচল বাণিজ্য জাহাজ
ইরানের উপকূলীয় ও কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে নৌ অবরোধ আরও কঠোর করে মার্কিন সামরিক হামলায় একটি বহুজাতিক বাণিজ্য জাহাজ অচল হয়ে পড়েছে। খবর আল জাজিরার।
শনিবার (৭ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে নৌ অবরোধ নিশ্চিত করতে গিয়ে সেন্ট কিটস-এর পতাকাবাহী ‘এম/ভি হুদা’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজের ক্রুদের নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেওয়ার পর মার্কিন বিমান থেকে নির্ভুল লক্ষ্যমাত্রার গোলা ছুড়ে এর পেছনের অংশে আঘাত করা হয়। জুলাই মাসের পর থেকে মার্কিন বাহিনী মোট ১৪৭টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে এবং আদেশ অমান্য করা পাঁচটি জাহাজকে অচল করেছে।
ইরানের কয়েকটি স্থানে বিকট বিস্ফোরণ
শনিবার ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ থেকে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহর থেকেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেশম দ্বীপে নতুন হামলার কথা স্বীকার করলেও একে ‘ছোটখাটো আঘাত’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে ও ইরান সমাধান চুক্তি চায়।
আইআরজিসি নেভির বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ রেখে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পথে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে চলা দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধকে আরও বিস্তৃত করে এবার দেশটির স্থলভিত্তিক সরবরাহ রুটগুলো বিচ্ছিন্ন করতে নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। শনিবার (৭ নভেম্বর) সেন্টকমের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরান যাতে স্থলপথ ব্যবহার করে উন্নত অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরিবহণ করতে না পারে, সেজন্য ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়েছে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সামুদ্রিক ব্লকেডের সাফল্যের পর স্থলপথেও এই বিশেষ টাস্কফোর্স তা নিশ্চিত করবে।
ফ্লোরিডার টাম্পায় সদর দফতর বিশিষ্ট এই নতুন টাস্কফোর্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের স্থল সীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা, দ্বৈত-ব্যবহারের প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত পণ্য ও অবৈধ আয়ের উৎসগুলো বন্ধের কাজ করবে।
পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিফেন্স সেক্রেটারি মাইকেল মুলরয় আল জাজিরাকে জানান, এই টাস্কফোর্সের মূল কাজ হবে ইরানের অস্ত্র ও শক্তি পরিবহণের মাধ্যমগুলোকে চিহ্নিত করে তা বিচ্ছিন্ন করা। তিনি ইঙ্গিত দেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি যুদ্ধ আরও জোরদার করেন, তবে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়- বরং ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও জ্বালানি খাত ধ্বংস করতেই এগুলোকে মূল টার্গেট করা হতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক