প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ক্রিস্টা পাইক নামের এক নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গিয়ে পরপর দুইবার বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে। এরপরও বেঁচে রয়েছেন তিনি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যটিতে চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন গভর্নর বিল লি।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে ১৯৯৬ সালে কলিন স্লেমিয়ার নামে এক তরুণীকে নৃশংসভাবে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে তার প্রাণদণ্ড কার্যকরের নির্ধারিত সময় ছিল। আদালতের সব আইনি লড়াই শেষে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দিলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে পেন্টোবারবিটাল কেমিক্যালের বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ শুরু করে।
পাইকের আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য মতে, কার্যকর দলের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার বাম হাতে স্যালাইনের আইভি লাইন বসানোর চেষ্টা করেন এবং কমপক্ষে সাতটি সূচ ব্যবহার করেন, যার মধ্যে একটি বেঁকেও যায়। প্রথমবার ইনজেকশন প্রয়োগের পর মৃত্যু না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয়বার বিষাক্ত কেমিক্যাল দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও ক্রিস্টা পাইক স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিলেন। পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার পর তার আইনজীবীরা আসামির সাজা মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই স্থগিতাদেশের ফলে আগামী ডিসেম্বরে নির্ধারিত আরেক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও থমকে গেল। চলতি ২০২৬ সালে টেনেসিতে এটি দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি কারুথার্স নামে এক আসামির শরীরে শিরা খুঁজে না পাওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক