কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
পৃথিবীর কক্ষপথে একটি মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক স্থানীয় সময় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানান। তবে অস্ত্রটি কী ধরনের এবং কখন কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে মেইঙ্ক বলেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবর্তিত হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। খবর বিবিসির।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলে আসছেন। তাদের দাবি, রাশিয়া ও চীন মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা বা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করার সক্ষমতা তৈরি করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৃথিবীর কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট লক্ষ্য করে অন্যান্য ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়ে ওই চুক্তিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, মহাকাশে প্রতিপক্ষের সক্ষমতা মোকাবিলায় প্রয়োজনে তাদের ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো, কার্যক্ষমতা কমানো বা ধ্বংস করার সক্ষমতাও ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুইভাবেই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর নতুন শাখা হিসেবে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। মহাকাশে মার্কিন স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন সম্পদ সুরক্ষিত রাখা এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এদিকে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ সামরিক সক্ষমতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। মার্কিন স্পেস ফোর্সের দাবি, চীন মহাকাশ ও কাউন্টারস্পেস সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একইভাবে রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
এর আগে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে, যা অন্য স্যাটেলাইটকে আক্রমণ করতে সক্ষম হতে পারে। তবে রাশিয়া এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক