ইরান যুদ্ধ
বৈশ্বিক বাণিজ্য খাতে বড় ধাক্কা, বাড়ছে খরচ কমছে মুনাফা
ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বৈশ্বিক ব্যবসা খাতে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার সৃষ্টি করেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলোর মোট ক্ষতি ও অতিরিক্ত ব্যয় অন্তত ২৫ বিলিয়ন (২৫০০ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়াভিত্তিক অন্তত ২৭৯টি কোম্পানি সরাসরি জানিয়েছে যে যুদ্ধ তাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ানো, উৎপাদন কমানো, কর্মী ছাঁটাই, ডিভিডেন্ড স্থগিত, শেয়ার বাইব্যাক বন্ধ করা এবং সরকারি সহায়তা চাওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক অর্থনীতি আবারও নতুন এক চাপের মুখে পড়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের অবস্থান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোম অ্যাপ্লায়েন্স কোম্পানি ওয়ার্লপুলের প্রধান নির্বাহী মার্ক বিটজার বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ের মতোই গুরুতর, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খরচ বাড়ার কারণে কোম্পানিগুলোর মুনাফার হার কমে যাচ্ছে এবং আগামী ত্রৈমাসিকগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এতে বৈশ্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।
এতে শিপিং খরচ বেড়েছে, কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সার, হিলিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও পলিথিন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিমান পরিবহন খাতে, যেখানে জ্বালানি ব্যয়ের কারণে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে টয়োটা, প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলসহ বড় কোম্পানিগুলোও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপের কথা জানিয়েছে।
তবে এখনও অনেক কোম্পানির আয়-ব্যয়ে এই ক্ষতির পূর্ণ প্রভাব দেখা যায়নি বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক করপোরেট খাতে এই সংকট আরও স্পষ্টভাবে দেখা দিতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক