মাশহাদে খামেনির কফিন, মার্কিন হামলায় বন্ধ ট্রেন চলাচল
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনির মরদেহ বহনকারী বিশেষ বিমান তার জন্মভূমি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদে অবতরণ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এক ভিডিও ফুটেজে দেখায়, ইরাক থেকে কফিনবাহী ‘মহান এয়ারের’ বিমানটি মাশহাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর ট্যাক্সিওয়েতে এগিয়ে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মাশহাদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের অষ্টম ইমাম, ইমাম রেজার (আ.) পবিত্র মাজার শরিফে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
এর আগে গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ ও কারবালা পবিত্র শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষের অশ্রুসিক্ত ও নজিরবিহীন বিদায় পর্ব শেষে আজ সকালে তার মরদেহ ইরানে নিয়ে আসা হয়।
এদিকে, প্রয়াত নেতার এই দাফন প্রক্রিয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানী তেহরানের সঙ্গে মাশহাদ শহরের সংযোগকারী ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর হামলায় রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন বন্ধ রাখা হয়।
ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান রেলওয়েজ এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুদের অপরাধমূলক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামতের জন্য বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। মাঝপথে আটকে পড়া হাজার হাজার যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সড়ক পথে বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই সুনির্দিষ্ট হামলাগুলো চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী মাশহাদ অভিমুখী পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করেছে। তাদের দাবি, লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে ‘ম্লান ও বাধাগ্রস্ত’ করার হীন উদ্দেশ্যেই মার্কিন প্রশাসন এই উসকানিমূলক হামলা চালিয়েছে।
মাশহাদের স্থানীয় প্রশাসন ধারণা করছে, সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে আজ সন্ধ্যার চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শহরটিতে অন্তত ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।
সূত্র : আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট আই

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক