বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড হু হু করে বাড়ছে। ফলে তা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে এটি মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাকে আরও জোরদার করেছে। এর ফলে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দামে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। খবর রয়টার্সের।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাজারে স্বর্ণের দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ১ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর আগে দিনের শুরুতে স্পট গোল্ডের দাম ২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে ইরান ইয়েমেনের হুথিদেরকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে বলেছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে যেন লোহিত সাগরের তেল পরিবহনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতির কারণেই তেলের বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৫১ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ চলতি সপ্তাহে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর দৃঢ় সংকল্প ঘোষণা করলেও তা কীভাবে করা হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি।
তবে এর আগে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় জুনে মার্কিন ভোক্তা মূল্যস্ফীতি কমেছে, যার ফলে ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পট স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। এছাড়া বুধবার প্রকাশিত তথ্যেও উৎপাদক মূল্য সূচকের পতন দেখা গেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ কমেছে। স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে এক হাজার ৬৫৮ দশমিক ৩৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে এক হাজার ২৭৯ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক