ইরানে ফের ভয়াবহ বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলসহ দেশের একাধিক কৌশলগত ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাতভর নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন ইরানের মূল ভূখণ্ডের গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মূলত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতেই এই জোরদার বিমান হামলা শুরু করে। খবর আলজাজিরার।
হামলায় হরমুজ প্রণালির প্রবেশদ্বারে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম দ্বীপ কেশম এবং কৌশলগত বন্দর নগরী সিরিকে দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। একই সঙ্গে ইরানের অন্যতম প্রধান নৌ-ঘাঁটি ও বন্দর নগরীবন্দর আব্বাসে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু উপকূলীয় অঞ্চলেই নয়, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো এবার ইরানের ভেতরের ও দূরবর্তী প্রদেশগুলোতেও অনুপ্রবেশ করেছে। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিসতান প্রদেশের চাবাহার ও কোনারকের নৌ-অবকাঠামো এবং রাসক শহরে একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় মার্কাজি প্রদেশের খন্দাব শহরের উপকণ্ঠে দুটি মার্কিন বিমান হামলা আঘাত হেনেছে বলে প্রদেশের উপ-গভর্নরের বরাত দিয়ে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ নিশ্চিত করেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে। গত কয়েক ঘণ্টায় শহরটিতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে একটি হামলায় সেখানকার একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর পরই হাসপাতালটি থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা শিশুদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সাম্প্রতিক দফার হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ হামলার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মার্কিন এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পূর্ণভাবে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক