ইরানের ৯০টি সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলা
ইরানের মূল ভূখণ্ডের ভেতরে নতুন করে ব্যাপক ও বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সামরিক কমান্ড বা সেন্টকম এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, তাদের বাহিনী ইরানের ভেতরে প্রায় ৯০টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
সেন্টকম জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরপরাধ বেসামরিক নাবিকদের ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকি মোকাবিলা করতেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সেন্টকমের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও কোলাজ প্রকাশ করে বলা হয়, এই নতুন দফার হামলায় ইরানের উপকূলরেখা বরাবর অবস্থিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গোপন গুদাম, নৌ-সক্ষমতার বিভিন্ন কেন্দ্র এবং সামরিক লজিস্টিকস অবকাঠামোগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তেহরানের হামলার সক্ষমতাকে ‘পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া এবং দুর্বল করার’ লক্ষ্যেই এই সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য এবং বাণিজ্যিক জাহাজে অযাচিত আগ্রাসনের দায়ে ওয়াশিংটন ইরানকে পুরোপুরি দায়ী করছে।
ইরানের অন্তত আটটি প্রধান শহরজুড়ে এই ভয়াবহ মার্কিন বোমাবর্ষণ করা হয়। আক্রান্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে বন্দর আব্বাস, চাবাহার, বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র এলাকা এবং সিরিক বন্দর। মার্কিন এই হামলার পরপরই ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চূড়ান্ত ও সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে তীব্র ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক