১৬ বছর পর এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের স্বপ্ন লিটনের
২০১০ সালে গুয়াংঝু এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। এরপর কেটে গেছে ১৬টি বছর। ২০১৪ ও ২০২৩, দুই আসরেই স্বর্ণপদক অধরা থেকেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) শুরু হচ্ছে এবারের এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট আসর। তবে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে বাংলাদেশকে খেলতে হচ্ছে না প্রথম রাউন্ড। সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন লিটনরা। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) প্রথম মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে থাকা ওমান, হংকং ও মালয়েশিয়ার মধ্যে যে দলটি গ্রুপসেরা হবে, নাগোয়ার নিশিনে তাদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
প্রতিপক্ষ এখনও নিশ্চিত না হলেও প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখেনি বাংলাদেশ। ভারত ও পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশও পূর্ণশক্তির দল পাঠাচ্ছে। দেশ ছাড়ার আগে মিরপুরের শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুটি নিবিড় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন লিটনরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে দলের বর্তমান আবহ ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন অধিনায়ক লিটন দাস।
লিটন দাস বলেন, “জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর বেশ কিছুদিন বিরতি ছিল। এই দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ দলের ভেতরের বন্ধন দৃঢ় করতে এবং মানিয়ে নিতে খুব সাহায্য করেছে। আমাদের প্রস্তুতি শতভাগ। আসরে আমাদের একটাই লক্ষ্য, ফাইনাল খেলা এবং সেখানে সেরা পারফর্ম করে ট্রফি ও পদক উঁচিয়ে ধরা।”
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ হলেও লিটনের জন্য এশিয়ান গেমসের মঞ্চ একেবারেই নতুন। ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসের সময় ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলায় জাতীয় দলের মূল খেলোয়াড়দের কেউই গেমসে অংশ নিতে পারেননি। ফলে লিটন, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুস্তাফিজুর রহমান ও সাইফ হাসানদের জন্য এটিই প্রথম এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা।
ঐতিহাসিক এই সুযোগকে স্মরণীয় করে রাখতে চান লিটন। এশিয়ান গেমসের পদকের মাহাত্ম্য তুলে ধরে লিটন বলেন, “জাতীয় দলের হয়ে যেকোনো টুর্নামেন্ট জেতা ট্রফি জয়ের বিষয়। কিন্তু এশিয়ান গেমসের মতো মঞ্চে স্বর্ণপদক জয়ের অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। এটা চার বছর পর পর আসে। প্রতিটি ক্রিকেটারই এই রোমাঞ্চ অনুভব করছে। সবারই একটাই বড় স্বপ্ন, স্বর্ণ জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা।”
প্রত্যাশার প্রসঙ্গেও বড় স্বপ্নের কথাই বলেছেন লিটন। তার ভাষায়, “প্রত্যাশা তো সবারই থাকবে। আমিও ক্রিকেটার হিসেবে প্রত্যাশা নিয়েই যাব যে, ওখানে ভালো কিছু করব। একটা জিনিস বলতে পারি, ছেলেরা অনেক আগ্রহী এই টুর্নামেন্টটা খেলার জন্য। কারণ এই টুর্নামেন্টটা প্রতি বছর আসে না।”
লিটন আরও বলেন, “আপনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা জাতীয় দলে যেকোনো জিনিস এক বছর পরপরই পেয়ে যাবেন। এই খেলাটা সবসময় হয় না। প্রত্যেকটা ক্রিকেটার অনেক রোমাঞ্চিত। আর বড় স্বপ্ন যেটা (স্বর্ণপদক), সেটাই পূরণ করার চেষ্টাই করব আমরা।”

স্পোর্টস ডেস্ক