জাতীয় দলে লিটনের যে আক্ষেপ
বৈশাখের ঝোড়ো বৃষ্টি থামলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাসের আক্ষেপ যেন থামছেই না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর অধিনায়কের কণ্ঠে ঝরল একরাশ হতাশা। বিশেষ করে দলের লোয়ার অর্ডার বা নিচের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতা লিটনকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে।
শনিবার (২ মে) মিরপুরে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে শুরুতে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও লিটন ও হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচ ১৫ ওভারে নেমে আসার পর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপ।
এক পর্যায়ে ৪ উইকেটে ৮৬ রান তোলা বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল। শেষ ৪ ওভারে অন্তত ৪০ রান আসবে—এমনটাই ছিল দর্শকদের প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টোটা। মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫ ওভারও পুরো খেলতে পারেনি স্বাগতিকরা। ১০৩ রানের পুঁজি নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে আটকানো সম্ভব হয়নি।
সিরিজ শুরুর আগেই লিটন বলেছিলেন, তিনি লোয়ার-মিডল অর্ডার ব্যাটারদের কাছ থেকে রান চান। কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা দায়িত্ব নিতে না পারায় হতাশ অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে যদি আমরা আরও কিছু রান করতে পারতাম, তবে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারতো। আমি আগেই বলেছিলাম আমাদের নিচের দিকের ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে। আজ বড় সুযোগ ছিল, কিন্তু আবারও তারা ব্যর্থ হয়েছে।’
শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন কিংবা তানজিম সাকিবের মতো স্পিনিং অলরাউন্ডার ও পেস অলরাউন্ডারদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট আক্ষেপ ঝরল লিটনের গলায়। তাঁর মতে, আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে স্পিনারদেরও ব্যাটিং জানা জরুরি।
লিটন বলেন, ‘মেহেদী বা রিশাদরা ব্যাটিং পারে, কিন্তু সেই পারফরম্যান্সটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা পাচ্ছি না। আমাদের দলে পাঁচজন বোলার দরকার, আবার ব্যাটিংও দরকার। ৯ জন ব্যাটার নিয়ে নামলে তো বোলার কম পড়ে যাবে।’
এই সমস্যার সমাধান জানতে চাইলে লিটনের কণ্ঠে কিছুটা অসহায়ত্বই প্রকাশ পায়। তিনি জানান, অনুশীলনে ব্যাটিং কোচরা নেটে অনেক সময় দিচ্ছেন। তবে নেট আর মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি যে ভিন্ন, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
লিটন আশাবাদী যে, সামনে বিশ্বকাপের আগে এই সমস্যা কিছুটা হলেও মিটবে। তিনি বলেন, ‘রাতরাতি সব বদলে যাবে না, তবে ওরা চেষ্টা করছে। আশা করি বিশ্বকাপের আগে তারা ছন্দে ফিরবে। ম্যাচে পারফর্ম করতে পারলে ওদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।’

স্পোর্টস ডেস্ক