শুক্রবার ঐতিহাসিক ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ
ঐতিহাসিক এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। প্রথমবার অংশ নিতে যাচ্ছে ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে। ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬ এর ডিভিশন-১ এর ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী মালয়েশিয়া। তবে বাংলাদেশও লড়াই করবে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়ে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেৱ ৩টায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার ঐতিহাসিক গ্যালোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। আর অনলাইনে দেখা যাবে স্পোর্টসজিফাই অ্যাপে।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে মালয়েশিয়া। এখন পর্যন্ত দুই দলের তিন দেখায় মালয়েশিয়ার জয় একটি। বাকি দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। সর্বশেষ ২০২২ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে জিতেছিল মালয়েশিয়া। এর আগে ২০১৫ সালে গোলশূন্য ড্র এবং ২০১২ সালে ১-১ গোলে ম্যাচ শেষ হয়েছিল। দুই দলের ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে মালয়েশিয়া। সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাঙ্কিং অনুযায়ী মালয়েশিয়ার অবস্থান ১৩৬তম এবং বাংলাদেশ আছে ১৮১তম অবস্থানে।
তবে পরিসংখ্যান কিংবা র্যাঙ্কিংই সবকিছু নয়। যেকোনো সময়ের বর্তমান বাংলাদেশ শক্তিশালী। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের মতো বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের আগমণ বাংলাদেশ দলে ভিন্ন শক্তি যোগ করেছে। ডিফেন্স, মিডফিল্ড কিংবা আক্রমণভাগ– সব জায়গাতেই বাংলাদেশ এখন এগিয়ে।
সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকেও মালয়েশিয়া কিছুটা এগিয়ে। বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা তাদের দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও সাম্প্রতিক সময়ে দলকে নতুন করে সাজানোর পথে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে সান মারিনোর বিপক্ষে জয় নিয়ে এই ম্যাচে নামছে লাল-সবুজের দল।
বাংলাদেশের শক্তির জায়গা হতে পারে মাঝমাঠ। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এবং ইউরোপের পেশাদার ফুটবলে অভিজ্ঞ হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের মাঝমাঠে বড় ভূমিকা রাখবেন। তার সঙ্গে দীর্ঘদিনের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, শমিত সোমও আছে। তাদের সমন্বয়ে দারুণ শক্তিশালী বাংলাদেশের মাঝমাঠ।
বাংলাদেশের আক্রমণভাগে নজর থাকবে ফারহান আলী ওয়াহিদের ওপর। ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ড বর্তমানে বোরহাম উডে খেলছেন। আক্রমণে তার গতি, ফিনিশিং এবং বল নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মালয়েশিয়ার রক্ষণে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। উইংয়ে ফাহমিদুল ইসলাম, রাকিব হোসনদের গতিও বাংলাদেশের শক্তির জায়গা।
তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে রক্ষণভাগে। মালয়েশিয়ার দলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নতুন মুখ রয়েছেন। আক্রমণভাগে বার্গসন দা সিলভা ও আরিফ আইমানের মতো খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ম্যানুয়েল হিদালগোর উপস্থিতিও মালয়েশিয়াকে বাড়তি শক্তি যোগাচ্ছে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ইন্দোনেশিয়ার বিমান ধরার আগে বলে গিয়েছেন, শুধু অংশগ্রহণ নয়, জয় ছিনিয়ে নিতেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। নতুন ধারার বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ করতে পারে সেটাই দেখার অপেক্ষা।

স্পোর্টস ডেস্ক