নকআউটে ফ্রান্সের সামনে সুইডেন, কে যাবে শেষ ষোলোতে?
গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেই শেষ ৩২- এর টিকিট কেটেছে ফ্রান্স। সুইডেনের চেয়ে শক্তি-সামর্থ্যেও বেশ এগিয়ে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে সুইডেনও রেখেছে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ। ফলে শেষ ষোলোর টিকিট কাটার এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে জমজমাট লড়াইয়ের।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ৩টায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ৩২- এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স আর সুইডেন। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি-স্পোর্টস ও সময় টিভি। অনলাইনে দেখা যাবে টফি, বায়োস্কোপ প্লাস, আই-স্ক্রিণ, মাই রবি, মাই এয়ারটেল অ্যাপে।
গ্রুপপর্বে দাপুটে ফুটবল খেলেছে দিদিয়ে দেশমের দল। সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়েকে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপ আইয়ের শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে লে ব্লুরা। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে সব ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছে ফ্রান্স। সেই আসরে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন দেশম। এবার কোচ হিসেবে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি।
আক্রমণভাগে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলে। এবারের বিশ্বকাপে দুজনেরই গোল চারটি করে। শেষ গ্রুপ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের জানান দিয়েছেন দেম্বেলে। বিশ্বকাপে এই দুই তারকার বোঝাপড়াও অসাধারণ। একে অপরকে দিয়ে পাঁচটি গোল করিয়েছেন তারা। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল জুটির কাতারে তাদের নিয়ে গেছে।
শুধু তারকা নির্ভর নয়। দল হিসেবেও দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে ফ্রান্স। টানা চারটি বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করেছে তারা। এমবাপ্পে ও দেম্বেলের পাশাপাশি মাইকেল অলিসে, দেজিরে দুয়ে, মার্কুস থুরাম ও ব্র্যাডলি বারকোলার উপস্থিতি আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে। মাঝমাঠে অরেলিয়ান চুয়ামেনি ও এনগোলো কান্তের অভিজ্ঞতা দলকে দিয়েছে ভারসাম্য, আর রক্ষণে উইলিয়াম সালিবা ও ইব্রাহিমা কোনাতে গড়ে তুলেছেন শক্ত প্রাচীর।
অন্যদিকে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থাকলেও সুইডেন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও জাপানের পেছনে থেকে নকআউট নিশ্চিত করলেও গ্রুপপর্বে সাত গোল করে তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সেরা গ্রুপপর্বের গোলসংখ্যা গড়েছে। আত্মবিশ্বাস নিয়েই তাই শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামছে পটারের দল।
সুইডেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ভিক্টর জিওকেরেস। গ্রুপপর্বে সবচেয়ে বেশি ১১টি শট নেওয়ার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য আটটি সুযোগও তৈরি করেছেন তিনি। তার সঙ্গে আলেকজান্ডার ইসাকের জুটি যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি। এ ছাড়া ইয়াসিন আয়ারি দুটি গোল করেছেন এবং অ্যান্থনি এলাঙ্গা টানা দুই ম্যাচে গোল করে দারুণ ছন্দে আছেন। দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণই হতে পারে সুইডেনের সবচেয়ে বড় ভরসা।
দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে ফ্রান্স। ২৩টি ম্যাচে তারা জিতেছে ১২টি, সুইডেনের জয় ছয়টি এবং ড্র হয়েছে পাঁচটি। তবে বড় কোনো টুর্নামেন্টে সর্বশেষ সাক্ষাতে ২০১২ সালের ইউরোতে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল সুইডেন। সেই স্মৃতি এবারও আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে তাদের।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অভিজ্ঞতার দিক থেকেও এগিয়ে ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালের পর নকআউটে ১৮ ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতে জয় পেয়েছে কিংবা পরের ধাপে উঠেছে তারা। তবে সুইডেনও সহজে হার মানা দল নয়। আগের সাতবার নকআউটে উঠে মাত্র দুইবার প্রথম ম্যাচেই বিদায় নিয়েছে তারা। তাই শেষ পর্যন্ত কঠিন লড়াইয়েরই প্রত্যাশা করা যায়।
সবমিলিয়ে শক্তি, অভিজ্ঞতা, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং স্কোয়াডের গভীরতায় স্পষ্ট এগিয়ে ফ্রান্স। তবে নকআউট ফুটবলে এক মুহূর্তই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের গল্প। এমবাপ্পে ও দেম্বেলেদের গতিময় আক্রমণ, নাকি জিওকেরেস ও ইসাকদের পাল্টা জবাব, সেই লড়াইয়ের ওপরই নির্ভর করবে শেষ ষোলোর টিকিট কার হাতে উঠবে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ফ্রান্স: মাইক মেনিয়াঁ, জুল কুন্দে, ইব্রাহিমা কোনাতে, উইলিয়াম সালিবা, থিও হার্নান্দেজ, অরেলিয়ান চুয়ামেনি, এনগোলো কান্তে, মাইকেল অলিসে, উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, মার্কুস থুরাম।
সুইডেন: ভিক্টর ইয়োহানসন, ভিক্টর লিন্ডেলফ, ইসাক হিয়েন, গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসন, ড্যানিয়েল সভেনসন, লুকাস বার্গভাল, ম্যাতিয়াস সভানবার্গ, ইয়াসিন আয়ারি, অ্যান্থনি এলাঙ্গা, আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর জিওকেরেস।

স্পোর্টস ডেস্ক