গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড-ঘানা
এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষা ফুরোনোর লক্ষ্যে শুরুটাও হয়েছে দাপুটে। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়াকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে থ্রিলায়ন্সরা। দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে নকআউটে খেলা। আফ্রিকার দেশ ঘানার বিপক্ষে এটি খুব একটা কঠিনও হওয়ার কথা নয়।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ২টায় ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে গিলোট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড আর ঘানা। ইংল্যান্ডের লক্ষ্য নকআউট হলেও ঘানার লক্ষ্য নকআউটের আশা বাঁচিয়ে। দুই দলের এই লড়াই বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে রাষ্ট্রীয় টিভি বিটিভি, টি-স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন।
ফক্সবোরোর এই বিখ্যাত ভেন্যুতে ৬৬ হাজার ৮২৯ জন দর্শকের সামনে দুই দলের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল যেখানে তাদের সাম্প্রতিক ছন্দ ও আক্রমণাত্মক ধার বজায় রাখতে মাঠে নামবে, সেখানে কার্লোস কুইরোজের ঘানা তাদের জমাট রক্ষণ, প্রতি-আক্রমণের গতি এবং ক্লিন শিটের আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস খুবই সংক্ষিপ্ত। এর আগে কেবল একবারই এক প্রীতি ম্যাচে দল দুটি একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল, যা ১-১ গোলে ড্র হয়। ফলে বিশ্বকাপের এই মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে দুই দলের সামনেই।
ইংল্যান্ড দল বর্তমানে টানা তিন ম্যাচ জয়ের ধারা বজায় রেখেছে। শেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই তারা প্রথমে গোল করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, ঘানার শুরুটা কিছুটা ধীরগতির হয়ে থাকে। শেষ ৭ ম্যাচের ৫ টিতেই তারা প্রথমে গোল হজম করেছে। তবে শেষ ম্যাচে কোনো গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়ার আত্মবিশ্বাস তাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
উভয় দলের ম্যাচেই সাধারণত কম গোল হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ইংল্যান্ডের শেষ ৭ ম্যাচের ৫টিতে এবং ঘানার শেষ ৮ ম্যাচের ৬টিতেই গড়ে গোল হয়েছে ২.৫টির কম। দুই দলের খেলায় ডিসিপ্লিনের বিষয়টিও লক্ষ্যণীয়। ইংল্যান্ডের শেষ ৭ ম্যাচে এবং ঘানার শেষ ১০ ম্যাচের সবকটিতেই কার্ডের সংখ্যা ছিল সাড়ে চারটির কম। এছাড়া ঘানার ম্যাচে কর্নারের সংখ্যাও তুলনামূলক কম (সাড়ে ১০টির কম) থাকে। গিলোট স্টেডিয়ামের প্রশস্ত মাঠের সুবিধা নিয়ে ইংল্যান্ড যেখানে উইং ব্যবহার করে ক্রসিংয়ের চেষ্টা করবে, সেখানে ঘানার রক্ষণভাগকে আকাশপথে বল বিপদমুক্ত রাখতে কঠোর পরীক্ষা দিতে হবে।
ইংল্যান্ড দল তাদের প্রথম ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল। ২২টি শটের মধ্যে ১১টিই ছিল অন-টার্গেট এবং তারা বড় সুযোগ তৈরি করেছিল ৭টি, যার মধ্যে ৪টি গোল আদায় করে নেয়। ম্যাচে ৫২ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল ইংলিশদের পায়ে এবং তাদের পাসের নির্ভুলতা ছিল ৮৫.৭ শতাংশ।
রক্ষণভাগেও বেশ শক্ত অবস্থান দেখিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষকে ১০টি শট নিতে দিলেও গোলরক্ষক জন পিকফোর্ড দুর্দান্ত তিনটি সেভ করেন। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় এজরি কনসা ৯৪.৪ শতাংশ নির্ভুলতায় ৬৭টি পাস এবং জর্ডান স্টোন্স ৯৫.৪ শতাংশ নির্ভুলতায় ৬২টি পাস সম্পন্ন করেন। তবে আকাশপথের লড়াইয়ে তাদের জয়ের হার ছিল মাত্র ৪৩ শতাংশ।
ম্যাচে ডেক্লান রাইস ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পাস ও একটি অ্যাসিস্ট করেন, যেখানে জুড বেলিংহাম ও মার্চাস রাশফোর্ড গোল করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। সোফাস্কোর রেটিং অনুযায়ী ইংল্যান্ডের সেরা পারফর্মারদের মধ্যে অধিনায়ক হ্যারি কেইন (৮.৩), বেলিংহাম (৭.৭) এবং ননি মাদুয়েকে (৭.৫) এগিয়ে রয়েছেন।
প্রথম ম্যাচে ঘানা বলের দখল কম রেখেও (৩৮ শতাংশ) ১-০ ব্যবধানের এক চমৎকার জয় তুলে নেয়। কাউন্টার অ্যাটাক বা প্রতি-আক্রমণ থেকে তারা ম্যাচ নির্ধারণী গোলটি পায়। বলের দখল কম থাকলেও তাদের লং-বলের কার্যকারিতা ছিল চোখ ধাঁধানো, যেখানে ৩৫টি লং-পাসের ২০টিই ছিল একদম সঠিক।
ঘানার রক্ষণভাগ প্রথম ম্যাচে দারুণ ব্যস্ত ও সফল ছিল। তারা ২৮টি বল ক্লিয়ার করে, ১৬টি ট্যাকল এবং ৮টি ইন্টারসেপশন করে। বিশেষ করে আকাশপথের দ্বৈরথে তাদের জয়ের হার ছিল ৬২ শতাংশ। প্রতিপক্ষের ১১টি শটের ৪টি অন-টার্গেট থাকলেও ৫০টি বল রিকভারি করে তারা নিজেদের জাল সুরক্ষিত রাখে।
উইঙ্গার অ্যান্টোইন সেমেনিও প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫.৩৫ কিলোমিটার গতিতে ১৭টি স্প্রিন্ট টেনে প্রতিপক্ষের রক্ষণ কাঁপিয়েছেন। অন্যদিকে মাঝমাঠে ক্যালেব ইরেনকি ১১.৯৭ কিলোমিটার পথ দৌড়ে ৯৬.৯ শতাংশ পাসের নির্ভুলতায় দলের জয়সূচক গোলটি করেন।
এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ৮.৩ সোফাস্কোর রেটিং নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা এই স্ট্রাইকার প্রথম ৯০ মিনিটেই দুটি গোল করেছেন এবং তার গোল করার দক্ষতা ও পেনাল্টি কনভার্সন রেট শতভাগ।
অন্যদিকে, ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে থাকবেন স্পটলাইটে। দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮.২ রেটিং পাওয়া এই গোলরক্ষক মাত্র ৪৫ মিনিটের অ্যাকশনে ৩টি দুর্দান্ত সেভ করেছেন এবং ক্রসগুলো দক্ষতার সাথে সামলেছেন। প্রথম ম্যাচে ১১টি অন-টার্গেট শট নেওয়া ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে রুখে দিতে আসারেই হবেন ঘানার প্রধান দেয়াল।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
ইংল্যান্ড: জর্ডান পিকফোর্ড (গোলরক্ষক), এজরি কনসা, জন স্টোন্স, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, বুকায়ো সাকা, ডেক্লান রাইস, জুড বেলিংহাম, ফিল ফোডেন, কোল পালমার, মার্কাস রাশফোর্ড এবং হ্যারি কেইন।
ঘানা: বেঞ্জামিন আসারে (গোলরক্ষক), জোনাস আডজেই আডজেতেই, জেরোম ওপোকু, গিডিওন মেনসাহ, মোহাম্মদ কুদুস, থমাস পার্টেই, ক্যালেব ইরেনকি, আন্দ্রে আইয়ু, জর্ডান আইয়ু, ইনিয়াকি উইলিয়ামস এবং অ্যান্টোইন সেমেনিও।

স্পোর্টস ডেস্ক