চারিদিকে প্রশংসার বন্যা, মেসিকে নতুন চ্যালেঞ্জ লেকিপের
৩৮ বছর বয়সেও যেন থামার কোনো লক্ষণ নেই লিওনেল মেসির। বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক রেকর্ড গড়ে ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করেই চলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২–০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে দলকে নকআউট পর্বে তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন মেসি।
টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৮। নতুন এই কীর্তির পর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো মেসিকে নিয়ে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস মেসিকে আখ্যা দিয়েছে, ‘কিংবদন্তিদের মাঝেও সেরা কিংবদন্তি’ হিসেবে। তাদের ভাষায়, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখেছেন।
স্পেনের আরেক জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা লিখেছে, ‘সবচেয়ে ঐতিহাসিক মেসি।’ তাদের মতে, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি ব্যতিক্রম। এমনকি ২০৩০ বিশ্বকাপেও মেসিকে দেখার স্বপ্নের কথাও উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
ফ্রান্সের বিখ্যাত ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ মেসির দীর্ঘস্থায়ী শ্রেষ্ঠত্বকে তুলে ধরেছে বিশেষভাবে। তাদের মতে, তিনি এমন একজন ফুটবলার, যিনি সময় এবং ফুটবলের প্রচলিত সব নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চলেছেন। তবে প্রশংসার পাশাপাশি নতুন এক লক্ষ্যও সামনে এনে দিয়েছে তারা। লেকিপ লিখেছে, এক আসরে জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড থেকে এখনও অনেক দূরে রয়েছেন মেসি।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছ থেকেও এসেছে প্রশংসা। ল্যান্স লিখেছে, ‘আবারও মেসি।’ তাদের মতে, আর্জেন্টিনার এই জাদুকর কখনোই জাদু দেখাতে ক্লান্ত হন না এবং বিশ্বকাপের কল্পনাতীত সব রেকর্ড একে একে ভেঙে চলেছেন।
ব্রাজিলের গ্লোবো শিরোনাম করেছে, ‘মেসি ১৮ বার!’ প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছে, গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ইতালির লা গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত মেসিকে তুলনা করেছে ভিনগ্রহের বাসিন্দার সঙ্গে। তাদের ভাষায়, ৩৮ বছর বয়সেও তিনি বিশ্ব ফুটবলকে এমনভাবে শাসন করছেন, যেন তার বয়স এখনও ২৫ বছর।
কাতালান সংবাদমাধ্যম স্পোর্ত লিখেছে, ‘মেসি প্রতিদিনই অবিনশ্বর হয়ে উঠছেন।’ তারা তার ফুটবলীয় সৌন্দর্য ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রশংসা করেছে আবেগঘন ভাষায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মনে করিয়ে দিয়েছে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলটিই বিশ্বকাপে গোলসংখ্যার রেকর্ড ভাঙার মুহূর্ত হয়ে থাকবে। আর দ্য সান ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার স্মৃতি টেনে শিরোনাম করেছে, ‘লিও যুগ’। তাদের মতে, বিশ্বকাপ এখন আরেকটি মেসিময় অধ্যায়ের সাক্ষী।
পর্তুগালের এ বোলা একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী শিরোনাম দিয়েছে, ‘মেসি নতুন রাজা।’
বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড ভাঙতে থাকা মেসিকে ঘিরে তাই এখন একটাই প্রশ্ন। আর্জেন্টিনাকে কত দূর নিয়ে যেতে পারবেন তিনি? আর ইতিহাসের বইয়ে নতুন কতগুলো অধ্যায়ই বা যোগ হবে তার নামের পাশে?

স্পোর্টস ডেস্ক