পাকিস্তান শিবিরে জোড়া আঘাত বাংলাদেশের
বাংলাদেশকে হতাশ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আব্দুল্লাহ ফজল আর সালমান আলী আঘা। চাপ সামলে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এই দুই ব্যাটার। অবশেষে আব্দুল্লাহকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙলেন তাইজুল ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার (১২ মে) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পঞ্চম দিনে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করেছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য এখন তাদের প্রয়োজন ১৪৭ রান।
দ্বিতীয় সেশনের প্রায় পুরোটা সময় উইকেটে কাটিয়ে দিয়েছে আব্দুল্লাহ-সালমান। ৯৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। চা বিরতি থেকে ফিরে সেই জুটি ভাঙলেন তাইজুল। পরের ওভারে আঘাত হানলেন তাসকিন আহমেদও।
ব্যাটে-বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি আব্দুল্লাহ। বল গিয়ে আঘাত হানে প্যাডে। জোড়ালো আবেদন করে বাংলাদেশ। তবে আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। রিভিউ নেন অধিনায়ক শান্ত। এরপর সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন আম্পায়ার। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ১১৩ বলে ৬৬ রান করেন আব্দুল্লাহ।
পরের ওভারেই আরেক থিতু হওয়া ব্যাটার সালমানকে ফেরালেন তাসকিন আহমেদ। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যাওয়া বল জমা পড়ে স্লিপে থাকা সাদমান ইসলামের হাতে। ৩৯ বলে ২৬ রান করে ফেরেন সালমান।
আব্দুল্লাহ-সালমানের ব্যাটে পাকিস্তানের প্রতিরোধ
মধ্যাহ্ন বিরতির আগে-পরে মিলিয়ে দ্রুতই তিন উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে নেমে চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। সেই চাপ সামলে আব্দুল্লাহ ফজল আর সালমান আলী আঘার চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে সফরকারীরা।
আব্দুল্লাহ-সালমানের জুটি ইতোমধ্যে ৯০টি বল খেলে ফেলেছে। তাদের জুটি থেকে এসেছে ৪৬ রান। সবচেয়ে বড় কথা দুজনই বেশ স্বাচ্ছন্দে বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করছেন। ইতোমধ্যে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন আব্দুল্লাহ।
দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পাকিস্তান
মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে এসে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল পাকিস্তান। দুই অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল সুযোগ দিচ্ছিলেন না বাংলাদেশের বোলারদের। আজানকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আজান-আব্দুল্লাহ জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের অর্ধশত রানের জুটিতে বাংলাদেশের মাথা ব্যাথ্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৩তম ওভারে এসে সেটি ভাঙলেন মিরাজ। বোল্ড করে ফেরালেন আজানকে। ফেরার আগে ৩৩ বলে ১৫ রান করেছেন তিনি।
চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসা পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদকে উইকেটে দাঁড়াতে দেননি নাহিদ রানা। তার গতিময় বল আলতো করে শানের ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। ৫ বলে ২ রান করে ফিরেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
এক উইকেট শিকার করে লাঞ্চে বাংলাদেশ
জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হবে ২৬৮ রান। এই মাঠে চতুর্থ ইনিংসে এখন পর্যন্ত যা অসম্ভব। এখানে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ইংল্যান্ডের। ২০১০ সালে বাংলাদেশের দেওয়া ২০৯ রান তাড়া করে ইংলিশরা।
রেকর্ড গড়ার চাপ নিয়ে মাঠে নামা পাকিস্তান খেই হারিয়েছে ইনিংসের প্রথম ওভারে। ওভারের শেষ বলে ওপেনার ইমাম-উল-হককে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ২ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ইমাম। ৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারী পাকিস্তান।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবারও উইকেটের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তাসকিন। তবে, আব্দুল্লাহ ফজলের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার।
চার ওভারে ৬ রান দিয়ে এক উইকেট শিকার করেই মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ।
এর আগে ৭০.৩ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিড মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬৭।

স্পোর্টস ডেস্ক