রিয়ালের সর্বনাশে বার্সেলোনার পৌষ মাস
মাঠের পারফরম্যান্সের পর এবার মাঠের বাইরের দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত রিয়াল মাদ্রিদ। অনুশীলনের সময় রীতিমতো হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন মাঝ মাঠের দুই কাণ্ডারি ফেডেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি। এ ঘটনায় হাসপাতালেও যেতে হয়েছে ভালভার্দেকে।
গত বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় রিয়াল শিবিরে তো বটেই, পুরো ফুটবল দুনিয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সাধারণত অনুশীলন কিংবা ড্রেসিংরুমের ঘটনাগুলো নিজেদের মধ্যেই সমাধান করে ফেলা হয়। তবে রিয়ালের এই ঘটনা মিডিয়ায় আসায় বেশ লজ্জায়ই পড়তে হয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের।
রিয়ালের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দুই মিডফিল্ডারের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে প্রথম দলের অনুশীলন চলাকালে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খেলোয়াড় ফেডেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব।’
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ জানিয়েছে, মাথায় আঘাত পেয়েছেন ভালভার্দে। সুস্থ হতে রিয়ালের উরুগুইয়ান এই তারকাকে অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। যে কারনে আগামীকাল রোববার (১০ মে) দিনগত রাতে বার্সেলোনার বিপক্ষে দুই দলের ঐতিহ্যের লড়াই ‘এল ক্লাসিকো’তে ভালভার্দেকে মাঠে দেখা যাবে না।
রিয়াল মাদ্রিদের এই অস্থিরতা বার্সেলোনার জন্য শাপেবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। লা লিগার শিরোপার দৌড়ে বার্সা আগে থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। রোববারের এল ক্লাসিকোতে জিতলেই লিগ শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে কাতালানদের। এমন ম্যাচে ভালভার্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকা রিয়ালের জন্য বড় ধাক্কা।
এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে ভালভার্দে বলেন, ‘অনুশীলনে আমার ও এক সতীর্থের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটে। প্রতিযোগিতার চাপ আর ক্লান্তি থেকেই আসলে ছোট বিষয়টি বড় হয়ে গিয়েছিল। ড্রেসিংরুমগুলোতে এমন ঘটনা অহরহ ঘটে এবং তা নিজেদের মধ্যেই সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কেউ একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেহেতু রিয়াল মাদ্রিদ এখন শিরোপাশূন্য মৌসুম পার করছে এবং সব সময় আতশি কাচের নিচে থাকে, তাই তিলকে তাল করা হচ্ছে।’
ভালভার্দে আরও লিখেছেন, ‘আজ আমাদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। তর্কের এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত একটি টেবিলের কোনায় আমার মাথায় আঘাত লাগে। এতে কপালে সামান্য কেটে যাওয়ায় নিয়ম মেনে হাসপাতালে যেতে হয়। আমার সতীর্থ আমাকে কখনোই আঘাত করেনি, আমিও তাকে মারিনি। তবে আমি বুঝতে পারছি, আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বা এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল—এমনটা বিশ্বাস করা আপনাদের জন্য অনেক সহজ। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।’

স্পোর্টস ডেস্ক