বিচ্ছেদের প্রথম সপ্তাহে ভুলেও করবেন না এই ৫ কাজ, বাড়তে পারে কষ্ট
বিচ্ছেদ মানেই শুধু একটি সম্পর্কের শেষ নয়, অনেকের কাছে এটি যেন হঠাৎ করে পরিচিত একটি জীবন ভেঙে পড়ার মতো। গতকালও যে মানুষটি প্রতিদিনের গল্পের অংশ ছিলেন, হঠাৎ করেই তিনি হয়ে যান অতীত। তখন বুকের ভেতর জমে থাকে কষ্ট, অভিমান, রাগ আর অসংখ্য প্রশ্ন। ঘুম আসে না, খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়, কোনো কাজে মন বসে না। কখনো আবার নিজেকেই মনে হতে পারে অচেনা।
এই কষ্ট সবচেয়ে বেশি তীব্র হতে পারে বিচ্ছেদের পর প্রথম সপ্তাহে। হঠাৎ পাওয়া ধাক্কায় অনেকেই আবেগের বশে এমন কিছু করে বসেন, যা পরে আরও বেশি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই সময়টাতে সাবেক সঙ্গীকে ভুলে যাওয়ার চেয়ে নিজেকে সামলে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগানের মতে, প্রথম সপ্তাহে সাবেক সঙ্গীকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা না করে নিজের যত্ন নেওয়া এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করা উচিত।
নিয়মিত খাওয়া-ঘুম
মন খারাপ হলেও সময়মতো খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ঘুমের সময় ঠিক রাখুন। প্রতিদিন কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলেও মন ভালো হতে পারে।
নিজের কষ্ট চেপে রাখবেন না
কষ্ট হলে কাঁদতে পারেন। নিজের অনুভূতিগুলো লিখেও রাখতে পারেন। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট নিজের মন নিয়ে ভাবুন। তবে সারাদিন একই বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন না।
সাবেক সঙ্গীর খোঁজ নেওয়া বন্ধ করুন
বিচ্ছেদের পর অনেকেই সাবেক সঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার ঢুঁ মারেন। তিনি কী করছেন, কার সঙ্গে আছেন কিংবা নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না—এসব জানার চেষ্টা কষ্ট আরও বাড়াতে পারে। তাই কিছুদিন তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকুন। পুরোনো ছবি ও বার্তাও বারবার দেখা এড়িয়ে চলুন।
কাছের মানুষের সঙ্গে থাকুন
এ সময় একা হয়ে যাবেন না। কাছের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। সবসময় নিজের কষ্টের কথা বলতে হবে না। একসঙ্গে হাঁটা, গল্প করা কিংবা বাইরে বসে চা খাওয়াও মন ভালো করতে পারে।
হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নয়
বিচ্ছেদের পর আবেগের বশে নতুন সম্পর্কে জড়ানো, চাকরি ছেড়ে দেওয়া কিংবা সাবেক সঙ্গীকে বারবার ফোন বা বার্তা পাঠানো ঠিক নয়। কিছুটা সময় নিন। মন শান্ত হলে সিদ্ধান্ত নিন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিচ্ছেদের পর ভালো হয়ে ওঠার পথ সবার এক রকম নয়। একদিন ভালো লাগতে পারে, আবার পরের দিন মন খারাপ হতে পারে। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
নিজেকে সময় দিন। আর কষ্ট, উদ্বেগ, ঘুম বা খাওয়ার সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

বিনোদন ডেস্ক