কেন দাঁড়িয়ে যায় শরীরের রোম?
প্রচণ্ড শীত, হঠাৎ ভয় কিংবা কোনো আবেগঘন মুহূর্ত—এসব পরিস্থিতিতে অনেকেরই শরীরে শিহরণ জাগে, মুহূর্তেই দাঁড়িয়ে যায় গায়ের রোম। আমরা একে সাধারণভাবে ‘গায়ে কাঁটা দেওয়া’ বলি। কিন্তু এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার পেছনে রয়েছে শরীরের জটিল স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের সূক্ষ্ম সমন্বয়।
শরীরে যদি শিহরণ জাগে, তাহলে রোমগ্রন্থিগুলোও সক্রিয় হয়ে ওঠে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় ‘পাইলোইরেকশন’। ব্যাপারটা আসলে কী? কেনই বা দাঁড়িয়ে যায় শরীরের রোম?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এটি মূলত স্নায়ুতন্ত্র ও স্টেম কোষের যৌথ কার্যক্রমের ফল। দুইটি মিলেই রোমগ্রন্থিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। ত্বকের কোষ থেকে সঙ্কেত পৌঁছায় স্নায়ুতে এবং স্নায়ু থেকে তা সরাসরি গিয়ে পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে। কোনো কারণে উত্তেজনা তৈরি হলে বা পরিবেশ-আবহাওয়ার আচমকা বদল হলে তার রেশ পড়ে ত্বকের নীচে থাকা কোষগুলোতে। এই পরিবর্তনের সঙ্কেত কোষ থেকে স্নায়ুবাহিত হয়ে গিয়ে পৌঁছায় মস্তিষ্কে। ত্বকের নীচে অসংখ্য কোষ রয়েছে।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, তিন রকমের কোষ থাকে—এপিথেলিয়াম, মেসেনকাইম ও স্নায়ুকোষ। উত্তেজনা, শিহরণ ইত্যাদি এই সব কোষ থেকে যে স্নায়ুতে যায় তার নাম সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু। এই সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু হলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ। সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুই ত্বকের কোষ ও পেশির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই স্নায়ুতে উদ্দীপনা জাগলে তখন রোম খাড়া হয়ে ওঠে।
আরও কিছু ঘটনা ঘটে ত্বকে। ত্বকের নীচে থাকা প্রতিটি রোমকূপ বা হেয়ার ফলিকলের গোড়ায় ‘অ্যারেক্টর পিলি’ নামে এক ধরনের অত্যন্ত ক্ষুদ্র পেশি থাকে। শরীরে উদ্দীপনা তৈরি হলে এই পেশিগুলো সংকুচিত হয়। তখন রোমগুলো একসঙ্গে খাড়া হয়ে ওঠে এবং সেই রোমকূপের আশপাশে থাকা ত্বকও ফুলে ওঠে। দেখলে মনে হয়, সারা গায়ে ছোট ছোট দানাদার গুটি তৈরি হয়েছে।
কখন গায়ে কাঁটা দেয়?
অনেক কারণ আছে। আবহাওয়ার বদল একটি বড় কারণ। বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে শরীর তার ভিতরের তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে। রোম খাড়া হলে ত্বকের ঠিক উপরেই একটি স্তর তৈরি হয়, যা ভিতরের তাপকে বাইরে বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়। অর্থাৎ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করাও এর একটি কাজ।
হঠাৎ প্রচণ্ড ভয় পেলে, রেগে গেলে অথবা অধিক উত্তেজিত হলে শরীর নিমেষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তখন রোম খাড়া হয়ে ওঠে। পশুদের ক্ষেত্রেও তা দেখা যায়। যেমন বিড়াল ভয় পেলে লেজ ও গায়ের লোম ফুলিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে।
ভয় বা আতঙ্ক কেবল নয়, পছন্দের গান শোনার সময়ে বা আবেগঘন কোনো মুহূর্তেও গায়ের রোম খাড়া হতে দেখা যায়। আসলে কোনো কারণে উত্তেজনা তৈরি হলে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোন ত্বকের নীচে থাকা পেশিগুলোর সংকোচন ঘটায়। ফলে রোম খাড়া হয়ে ওঠে এবং নিমেষে মসৃণ ত্বকও দানাদার ও খসখসে হয়ে ওঠে।

ফিচার ডেস্ক