হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় টিকাদানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ
দেশজুড়ে চোখ রাঙাচ্ছে হাম। হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হামের প্রাদুর্ভাব রোধ করতে টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) সারা দেশে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে তেজগাঁও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকাদান কর্মসূচির আয়েজন করা হয়। এ টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে এক অবহিতকরণ সভায় বক্তারা হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, আগে ৯ মাস বয়সী শিশুদের এ টিকা দেওয়া হতো, বর্তমানে ছয় মাস বয়সেই এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগে সাধারণত স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যেত, কিন্তু এখন খুব ছোট শিশুদের মধ্যেও এটি দেখা যাচ্ছে। আমরা জানার চেষ্টা করছি কেন এটি হচ্ছে—মায়েদের টিকা না দেওয়ার কারণে, নাকি কিছু মায়ের ব্রেস্টফিডিং বিষয়ে সচেতনতার অভাবের কারণে।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ফোয়ারা তাসনিম বলেন, সাধারণত এ ধরনের ক্যাম্পেইন চার বা পাঁচ বছর পরপর হয়ে থাকে। সে হিসেবে ২০২৪-২৫ সালে হওয়ার কথা থাকলেও তা নানা কারণে হয়নি। এ কারণে আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি। আশা করি, আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে এ সংকট মোকাবিলা করতে পারব। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো শিশুর জ্বর হলে তাকে আইসোলেট করতে হবে, কারণ একজন থেকে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে।
ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন জিল্লুর রহমান বলেন, কোনো শিশুকেই টিকার আওতার বাইরে রাখা যাবে না। যারা টিকা নেয়নি, তাদের টিকার আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচার যেন না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
জিল্লুর রহমান আরও বলেন, এ পর্যন্ত যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই টিকা নেয়নি।
সারা দেশে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক