বিশ্ব সিওপিডি দিবস
সিওপিডি হতে পারে ধূমপায়ীদের
সিওপিডি শ্বাসতন্ত্রের একটি রোগ। আজ বিশ্ব সিওপিডি দিবস।এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৫৫৯তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছ্নে ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন। বর্তমানে তিনি বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : সিওপিডি মানে ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। আজ সিওপিডি দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। এর কারণ কী? রোগটিকে এত গুরুত্ব কেন দিচ্ছেন আপনারা?
উত্তর : সারা বিশ্বে সিওপিডি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ কোটির মতো। আমাদের দেশে প্রায় ৬০ লাখ সিওপিডি রোগী আছে। বর্তমানে মৃত্যুর পাঁচ নম্বর কারণ সিওপিডি। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি মানুষ মৃত্যুর তিন নম্বর কারণ হবে।
প্রশ্ন : সিওপিডি রোগে এত মানুষ আক্রান্ত। রোগটি আসলে কী?
উত্তর : এটি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এর কারণ হচ্ছে, ধূমপান ও পরিবেশের অন্যান্য যে দূষিত পদার্থ আছে, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। কারণ, ওখানে এক ধরনের প্রদাহ হয়। এতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। এতে রোগী শ্বাসকষ্ট কাশি নিয়ে আমাদের কাছে আসে।
প্রশ্ন : একজন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয় কেন? কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং কেন?
উত্তর : দুটি কারণ আছে। বংশগত একটি কারণ আছে। পরিবেশগত কারণ আছে। পরিবেশগত কারণ এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশগত কারণের মধ্যে যেই জিনিসগুলো আছে, এর ভিতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধূমপান। দেখা গেছে, ১০০ জন লোক যদি ধূমপান করে, এর ভেতর ২০ জন লোকের সিওপিডি হয়। যাদের সিওপিডি আছে, তাদের দেখা গেছে ৮০ থেকে ৯০ জনের ধূমপানের ইতিহাস আছে।
ধূমপানের কতগুলো কারণ আছে। যারা বয়স কম থাকতে ধূমপান শুরু করে, ধরেন ১৫-১৬ বছর বয়সে ধূমপান শুরু করে, তাদের ক্ষেত্রে সিওপিডি হওয়ার সংখ্যা বেশি, যারা পরে শুরু করে তাদের থেকে।
আমাদের সবারই ৩০ বছরের পর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যায়। প্রতি বছরই এটি কমার হার ৩ এমএল। তবে যাদের সিওপিডি আছে বা যারা ধূমপান করে, তাদের কমার গতিটা তাদের ১০০ এমএল মিলিলিটার প্রতি বছর কমে যায়। এখন যারা ৬০ বছর থেকে ৩০ বছরে আছে, তাদের তিন লিটার কমে যাবে। তার অর্ধেক ক্যাপাসিটি হয়ে যাবে। এটি স্বাভাবিক মানুষের এক লিটারের মতো কমবে। এই জন্য তাদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এটি শ্বাসকষ্ট কাশি হিসেবে প্রকাশ করে।
শতকরা পাঁচ ভাগ রোগী পরোক্ষ ধূমপানের সাথে জড়িত। অর্থাৎ নিজে ধূমপান করছেন না, তবে যারা ধূমপান করছে তাদের সংস্পর্শে থাকার কারণে তাদের সমস্যা হচ্ছে।
কারো যদি গর্ভে বাচ্চা থাকে, ঘরে যদি কেউ ধূমপান করে, তাহলে গর্ভের বাচ্চার বৃদ্ধি কম হতে পারে। সেই বাচ্চার ভবিষ্যতে সিওপিডি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই শুধু ধূমপান করলেই হয় না, যেই বাচ্চা জন্ম নেয়নি তারও সিওপিডি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
আমাদের গ্রামগঞ্জের নারীদের লাকড়ির চুলায় রান্না করার সময় অনেক সময় ফু দিতে হয়, এতে অনেক ধোঁয়া ফুসফুসে চলে যায়। এটা কিন্তু ভবিষ্যতে গিয়ে তাদের ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের রোগ তৈরি করে। আমাদের দেশের নারীদের বয়স যাদের চল্লিশের বেশি তাদের ভালো সংখ্যক সিওপিডি আছে। যারা কোনো দিনই ধূমপান করে না।

ফিচার ডেস্ক