ডায়াবেটিস হলে চোখ পরীক্ষা করান
ডায়াবেটিস হলে চোখের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৫১৫তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান। বর্তমানে তিনি ভিশন আই হাসপাতালের রেটিনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : একজন ডায়াবেটিক রোগীর চোখের রেটিনা ঠিক আছে কি না, সেটি কত দিন পরপর ঠিক করা উচিত? তাঁর যদি সমস্যা হয়েও যায়, কী ধরনের সমস্যা তিনি অনুভব করবেন?
উত্তর : ডায়াবেটিসের কারণে আমাদের দেশে অনেক বড় একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে গেছে। মানুষের ভেতর একটি সচেতনতা তৈরি হয়েছে। ডায়াবেটিস হলে তাঁরা প্রতিদিনই হাঁটাহাঁটি করেন, ব্যায়াম করেন, প্রতি মাসে একবার করে রক্তের চেকআপ করান, দুই-এক মাস পরপরই তাঁরা কিডনিটা চেকআপ করেন। কিন্তু এটি আমাদেরই ব্যর্থতা হয়তো, আমরা মানুষের মধ্যে এই সচেতনতা তুলে ধরতে পারিনি যে ডায়াবেটিস হলে ছয় মাসে অন্তত একবার চোখের রেটিনা পরীক্ষা করা দরকার। যেভাবে রক্তের গ্লুকোজ, কিডনির ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করছি, ঠিক একইভাবে রেটিনা অন্তত ছয় মাসে একবার পরীক্ষা করা দরকার। এই সচেতনতা ঠিকমতো তৈরি করতে পারিনি বলে একটি অগ্রবর্তী পর্যায় না পৌঁছানো পর্যন্ত রোগীরা টের পান না, যা তাঁরা চোখে কম দেখছেন অথবা ডায়াবেটিসের কারণে তাঁর রেটিনার কোনো ক্ষতি হচ্ছে। এটা রোগীদের বুঝতে পারার কথা নয়। রোগীরা যখন বুঝতে পারেন, তখন অনেক অগ্রবর্তী হয়ে গেছে। তখন আমাদের কাছে আসেন, তখন চিকিৎসা আমরা যেটা শুরু করি, সেটি তখন ব্যয়বহুল হয়ে যায় এবং দৃষ্টি ভালো হয়ে যাওয়ার ফলাফল সেই মাত্রায় আসে না। তবে এটি যদি আমরা আগেভাগে নির্ণয় করতে পারতাম, রোগীরা আমাদের কাছে বা আমরা যদি রোগীদের কাছে গিয়ে তাঁকে দক্ষতার আওতার মধ্যে নিয়ে আসতে পারতাম, তাহলে হয়তো বড় ক্ষতিটা হতো না।
প্রশ্ন : এটি অপ্রতুল কি না এ দেশে? এই পরীক্ষার খরচ কেমন?
উত্তর : কোনো কোনো পরীক্ষা প্রয়োজন নেই, যদি উনি একজন দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও রেটিনা পরামর্শকের তত্ত্বাবধানে যান, তাহলে ভালো হয়। আমরা রেটিনাকে দেখব। আমরা জানি যে সাধারণ চোখ পরীক্ষা করার যে যন্ত্রপাতি বা সাধারণভাবে আমরা যেভাবে চোখ দেখি, দেখার সময় রেটিনা দেখা যায় না। কারণ, রেটিনাটা একদম চোখের গভীরে থাকে। আমরা বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে চোখের মণিকে বড় করে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে চোখের ভেতর রেটিনা পরীক্ষা করি। এই পরীক্ষা সবচেয়ে জরুরি। এই পরীক্ষা যদি আমরা একজন রেটিনা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থেকে ছয় মাস বা এক বছর পর পর করি, তাহলে আমার মনে হয় ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারব।
প্রশ্ন : রেটিনা বিশেষজ্ঞ তো সব সময় পাওয়া যাবে না। যেকোনো চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে কি হবে?
উত্তর : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ, যদি উনি রেটিনা দেখতে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর কাছে গেলেও চলবে।

ফিচার ডেস্ক