হাতের জন্মগত বিকলাঙ্গতা কেন হয়?
অনেক সময় শিশু জন্মগতভাবে হাতে বিকলাঙ্গতা নিয়ে জন্ম নেয়। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৫১০তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. কৃষ্ণপ্রিয় দাশ। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : হাতে সাধারণত কী কী ধরনের জন্মগত ত্রুটি হয়?
উত্তর : হাত বলতে আমরা আপার লিম্বকে বুঝি। যেটি ঘাড় থেকে, কাঁধ থেকে শুরু করে আঙুলের মাথা পর্যন্ত। আপার লিম্বের বিকলাঙ্গতা বলতে বিভিন্ন ধরনের বিকলাঙ্গতা আছে। এগুলোকে সাত বা আট ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সারা বিশ্বের হ্যান্ড সোসাইটি এটি নির্ধারণ করেছে। বলা হয়, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব সোসাইটি অব সার্জন অব দ্য হ্যান্ড। প্রাথমিকভাবে আমেরিকান হ্যান্ড সোসাইটি ও সোয়ানসেন বলে একজন বিখ্যাত হ্যান্ড সার্জন প্রথম ভাগ করেছেন। জন্মগতভাবে দুটো আঙুল একটা আরেকটার সঙ্গে লেগে যায়। এরপর পলিডেকটেলি হয়। এ ছাড়া হাত বা হাতের যেকোনো অংশ পুরোপুরি না থাকতে পারে। একে আমরা বলি, এমিলিয়া বা ফ্যাকোমোলিয়া। আমাদের হাতে আছে দুটো হাড়। রেডিয়াস হাড় না থাকতে পারে। একে বলে ক্লাভেন্ট। আন্ডার ক্লাভেন্টও হতে পারে। দুটোর যেকোনো একটির উপস্থিতি থাকতে পারে। এগুলো হলো প্রচলিত। অপ্রচলিতের মধ্যে কনসটিকসন ব্যান্ড হয়ে থাকতে পারে। জটিল হলে অনেক সময় হাতের অংশ থাকেই না। আঙুলের কোনোটা না থাকতে পারে। এ ছাড়া জন্মগতভাবে আঙুল বাঁকা থাকতে পারে। এগুলো হলো প্রচলিত।
প্রশ্ন : কী কারণে একটি শিশু এ রকম জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়?
উত্তর : আসলে যেকোনো কনজেনিটাল এনোমেলি বললে, প্রতি এক হাজারর জন্মের ভেতর একটি থেকে দুটো কনজেনিটাল এনোমেলি থাকে। তার ১০ ভাগ আপার লিম্বের। বিষয়টি একদম কম নয়। এটা কাদের হয়? কিছু কিছু জিনগতভাবে হয়। কিছু ওষুধ যেমন অরফারেন বা থেলিডোমাইড—এসব ওষুধ যদি মা খান, তাতেও সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া এগুলো একদম নিশ্চিত, হবেই। আরো কিছু কিছু ওষুধ আছে, যেগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত। কারণ যেগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতি করে। এ জন্য জন্মগত ত্রুটি আসতে পারে।
প্রশ্ন : এই জাতীয় ওষুধগুলো যাতে না খাওয়া হয়, সে জন্য কার দায়িত্ব পড়ে এ ক্ষেত্রে? আপনি কি মনে করেন?
উত্তর : একটি পরিবার যখন সিদ্ধান্ত নেয় গর্ভধারণ করবে, তার ছয় সপ্তাহ আগে, এ ধরনের জন্মগত বিকলাঙ্গতা হতে পারে। এই ওষুধগুলো এড়িয়ে যাওয়া উচিত। রেজিস্ট্রার চিকিৎসকরা কিন্তু জানেন বিষয়গুলোতে। আমরা জানি কোন ধরনের ওষুধগুলোতে মারাত্মক এই সমস্যা হতে পারে। তবে যাঁরা অপেশাদার চিকিৎসক, তাঁরা অনেক সময় গর্ভাবস্থায় এমন ওষুধ দেয়, এগুলো খুব মারাত্মক ধরনের জন্মপ্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এমনকি গর্ভধারণটি শেষও হয়ে যেতে পারে। ওই চিকিৎসক কিন্তু জানে না তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটা কী। হয়তো সে না জেনেই দিচ্ছে।

ফিচার ডেস্ক