হেডনেক ক্যানসারের কারণ কী?
হেডনেক ক্যানসার বেশ জটিল একটি রোগ। ২৭ জুলাই পালিত হয়েছে বিশ্ব হেডনেক ক্যানসার দিবস। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৪৫৭তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. আবদুস সাত্তার। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক কান গলা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : হেডনেক ক্যানসারের প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিল।
উত্তর : গত ২৭ জুলাই পালিত হয়েছে বিশ্ব হেডনেক ক্যানসার দিবস। আসলে এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্ব হেডনেক ক্যানসার দিবস। এই দিবসটি শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালের শতবর্ষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
এবার দিবসটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক অবস্থায় হেডনেক ক্যানসার যাতে ধরা যায় এবং বর্তমান যে চিকিৎসা ধারা হেডনেক ক্যানসারের সেটি যাতে বাস্তবায়ন করা যায়। এই দুটি বিষয়ের ওপর এবার জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন : প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে?
উত্তর : ক্যানসার ধরার সঙ্গে রোগীর বেঁচে থাকার এক বিশাল সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসা খরচের সঙ্গে এর বিশাল সম্পর্ক রয়েছে। রোগীর চিকিৎসা-পরবর্তী যে জীবন-যাপনের মান, তার সঙ্গে একটি বিশাল সম্পর্ক রয়েছে।
প্রশ্ন : হেডনেক ক্যানসার বলতে কোন অংশের বা কোন ধরনের ক্যানসারকে বোঝায়?
উত্তর : সাধারণত হেডনেক ক্যানসার বলতে নাক, মুখ, মুখের ভেতরে যে খাদ্যনালি, শ্বাসনালি, থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যানসার, শরীরের যে লালাগ্রন্থি আছে, এগুলো থেকে উৎপন্ন হয় যেসব ক্যানসার এগুলোকে সাধারণত একত্রে হেডনেক ক্যানসার বলে।
প্রশ্ন : সাধারণত বিভিন্ন রোগের বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্ন বিভাগের একটি ভূমিকা থাকে। কোন কোন বিভাগ এতে যুক্ত থাকে?
উত্তর : সাধারণত পাঁচ ধরনের চিকিৎসকরা যুক্ত থাকেন। একটা হলো নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ। দ্বিতীয় হলো, জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞরা। তৃতীয় হলো, মেক্সেলো ফেসিয়াল, প্লাস্টিক সার্জারির পুনর্গঠনের জন্য। এরপর অনকোলজিস্ট। এর বাইরেও রিহেবিলেশন, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং আমরা যোগ করতে পারি। যেখানে যার প্রয়োজন, সেখানে কাজ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন : হেডনেক ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এমন কারণগুলো কী?
উত্তর : প্রধানত ধূমপান। তবে আমাদের দেশে সাধারণত গ্রামের মানুষ পান-জর্দা মুখে নিয়ে ঘুমায়। এসব বিষয় থেকে মুখগহ্বরের ক্যানসার বেশি হয়। আমাদের গ্রামের মানুষরা সাধারণত এটি করে। তৃতীয়ত, মদ্যপান। মদ্যপান আমাদের দেশে অতটা ব্যাপ্তি না হলেও এটি একটি অন্যতম কারণ। বিদেশে একে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই দুটোর মধ্যে আবার একটি সম্পর্ক আছে। ধূমপান ও মদ্যপান যদি কেউ একসঙ্গে গ্রহণ করে, তাতে বেশি ক্ষতি হয়। তার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। একই সঙ্গে দুটো হলে, একটির যে ঝুঁকি তার তুলনায় আরো বেড়ে যায়। এতে তার ক্ষতি বৃদ্ধি পায়।
এ ছাড়া কিছু ভাইরাস এখন হেডনেক ক্যানসারের জন্য দায়ী, এটি প্রমাণ হয়েছে। মুখগহ্বরের জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফিচার ডেস্ক