বৌভাতের দিনের ছবি প্রকাশ করলেন ওমর সানী, কেমন ছিলেন মৌসুমী
সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে অনেক কিছু। তবে কিছু ছবি যেন আটকে রাখে জীবনের বিশেষ মুহূর্ত। তেমনই এক পুরোনো ছবি সামনে এনে বিয়ের দিনের স্মৃতিতে ফিরলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা ওমর সানী। ছবিতে নববধূর সাজে দেখা গেছে তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী মৌসুমীকে। পাশে ওমর সানীও ধরা দিয়েছেন বিয়ের সাজে।
গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবিটি প্রকাশ করেছেন ওমর সানী। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘বৌভাতের দিন। স্থান রাওয়া ক্লাব মাঠ, মহাখালী।’ এরপরই নেটিজেনদের নজর কাড়ে তিন দশকের বেশি পুরোনো সেই স্মৃতি। ছবিটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় আসে এই তারকা দম্পতির প্রেম ও বিয়ের গল্পও।
ওমর সানী ও মৌসুমীর প্রেমের শুরু নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯৪ সালে ‘দোলা’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে দু‘জনের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। অবশ্য এরও আগে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন ওমর সানী।
ভালো লাগা একসময় গড়ায় ভালোবাসায়। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে গোপনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের খবর সে সময় প্রকাশ্যে আনেননি এই তারকা জুটি। অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকেই বিষয়টি কিছুটা গোপন রেখেছিলেন তারা।
এরপর একই বছরের ২ আগস্ট ঘটা করে আয়োজন করা হয় তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। রাজধানীর মহাখালি রাওয়া ক্লাব মাঠে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানই আজও তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটিকেই বিবাহবার্ষিকী হিসেবে উদযাপন করে আসছেন ওমর সানী ও মৌসুমী।
এই তারকা দম্পতির সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। ছেলে ফারদীন এহসান ও মেয়ে ফাইজা। ২০২৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে ওমর সানী স্ত্রী মৌসুমীর প্রশংসা করে জানান, সন্তানদের নিয়ে তার স্ত্রী সবসময় খুবই যত্নশীল। এমনকি মৌসুমীকে তিনি ভালোবাসার সঙ্গে ‘ফারদীন-ফাইজার আম্মু’ বলেও সম্বোধন করেন।
তিন দশকের বেশি সময়ের এই সংসারজীবনে নানা সময়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হলেও একসঙ্গেই পথ চলেছেন ওমর সানী ও মৌসুমী। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ওমর সানী।
পর্দায় জনপ্রিয় জুটি হিসেবে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া থেকে বাস্তব জীবনের জীবনসঙ্গী—ওমর সানী ও মৌসুমীর গল্প তাই ঢালিউডে আলাদা এক অধ্যায় হয়ে আছে। আর বৌভাতের দিনের এই পুরোনো ছবিটি যেন সেই দীর্ঘ পথচলারই এক টুকরো মধুর স্মৃতি।

বিনোদন ডেস্ক