ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলা, ফারুকীর প্রশ্নের তির যাদের দিকে
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অভিনেত্রীর সহকর্মী, ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এবার এ বিষয়ে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন নির্মাতা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন।
ফারুকী তার পোস্টের শুরুতেই আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ যে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুশোচনায় না ভুগে দেশে-বিদেশে জঙ্গি আচরণ করে যাচ্ছে, এই দায় ওই সব সুশীলদের, যারা জুলাই গণহত্যার রক্ত হাতে থাকা এই অপরাধীদের পুনর্বাসন নিয়ে মিডিয়ায় লিখেছেন।’
তিনি লিখেছেন, ‘এই দায় সেসব মানুষের, যারা জুলাই গণহত্যার সম্মতি উৎপাদনকারীদের এবং সিমপ্যাথাইজারদের টেলিভিশন মিডিয়ায় স্পেস দিয়েছিলেন গণহত্যাকারী দল আর অন্যদের এক পাল্লায় তুলে কথা বলার জন্য। যাদের সুযোগ দেয়া হয়েছিল এই কথা বলার জন্য যে, আচ্ছা তারেক রহমান লন্ডন থেকে রাজনীতি করতে পারলে খুনি হাসিনা কেন ভারত থেকে সেটা করতে পারবে না। যেন তারেক রহমান জুলাই গণহত্যা করে, হাজার হাজার মানুষ গুম-খুন করে জনতার দৌড়ানি খেয়ে পালিয়ে লন্ডন গিয়েছিলেন। এই দায় আমাদের জুলাইয়ের পক্ষ শক্তির সবার, যারা নিজেদের পাওয়ার স্ট্রাগলে আপার হ্যান্ড নেয়ার জন্য যার যার মতো করে এইসব নুইসেন্সকে উস্কে দিয়েছি। এই দায় আমাদের অন্তর্বর্তী এবং বিএনপি সরকারের। কারণ, আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধীদের বিচার বা তিরস্কারের আওতায় আনতে পারিনি। ফ্যাসিবাদের মূল শক্তি এর কনসেন্ট উৎপাদনকারীরা। এদেরকে একটা কমিশনের সামনে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি না করার ফলে এরাই দেশে বসে বসে কুঁই কুঁই করার মধ্য দিয়ে বিদেশে থাকা আওয়ামী জঙ্গিদের ফুয়েল জোগাচ্ছে।’
ফারুকী লিখেছেন, ‘এই দায় আমাদের কালচারাল অঙ্গনের তাদের, যারা পুরো জুলাই মাসে চুপ থাকে, ফ্যাসিবাদী অপকর্ম নিয়ে একটা কথাও বলে না, আর আগস্টের ১৫ তারিখ আসলে বলে ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’। এর মধ্য দিয়ে তারা বিদেশে থাকা এই জঙ্গিদের এই বার্তাই দেয় যে, তোমরা কোনো অপরাধবোধে না ভুগেই তোমাদের কাজ চালাতে পারো। শুধু একটা কথা লিখে রাখেন, একাত্তরের রাজাকারকে মানুষ যেমন ঘৃণা করে, চব্বিশের এই রাজাকারদেরও মানুষ একই চোখে দেখবে। ফাইনালি এই দায় আমাদের বিএনপি সরকারের একটা অংশেরও, যারা মিডিয়া এবং কালচারকে আওয়ামী এবং সিআরআইয়ের হেফাজতে তুলে দিছে এবং দিচ্ছে। আপনি বিপ্লব পরবর্তী সরকার চালাবেন স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির ওপর ভিত্তি করে, আর আপনার মিডিয়া এবং কালচার ক্যানন হবে বাকশাল আর সিআরআই- এটা একটা অবিশ্বাস্য কম্বিনেশন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন, আপনার সরকারের ভেতরে বসে কারা ফ্যাসিবাদের সফট পাওয়ারকে স্পেস দিচ্ছে, কারা কারা তাদের এমপাওয়ার করছে। আপনার সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি জানে, কালচারাল লীগ এবং মিডিয়া লীগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলাতে কী আলোচনা হয়? কী পরিকল্পনা হয়? কীভাবে সেই পরিকল্পনা মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা আকারে আসে? কোন প্রোপাগান্ডা কোন সুদুরপ্রসারী চিন্তা থেকে করা হচ্ছে? তারা কী জেনে-শুনে এদের এমপাওয়ার করছে?’
সাবেক এ সংস্কৃতি উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘যারা এটা করছে তারা ভুলে যাচ্ছে, জুলাই একটা ওয়ান ইলেভেন মার্কা সরকার পরিবর্তন ছিল না, যে বলবে ‘যা হয়েছে হয়েছে, এসো মিলেমিশে খেলি’। তারা এটা ভুলে যাচ্ছে, জুলাইতে গণহত্যা হয়েছে, জুলাইয়ের আগে ষোলো বছর গুম-খুন ছাড়াও দেশটা লিটারালি অন্য দেশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। তারা ভুলে যাচ্ছে, বাকশালীরা এখনো প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষা করছে একটা ছোবল মারার। মনে রাখবেন, ‘হৃদয়ে বাকশাল’র কাছে বিএনপিই হলো আসল শত্রু।’
সবশেষ তিনি লিখেছেন, ‘আপনাকে প্রতিহিংসার আশ্রয় নিতে বলছি না। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ইন্টেলেকচুয়াল অপরাধের জন্য তিরস্কার বরাদ্দ রাখার কথা বলছি। এদের এমপাওয়ার বা সেলিব্রেট না করার কথা বলছি।’

বিনোদন ডেস্ক