আমাকে অভিশংসনের চেষ্টা ডেমোক্র্যাটদেরই ধ্বংস ডেকে আনবে : ট্রাম্প
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর নতুন করে অভিশংসনের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটরা এমন কোনো উদ্যোগ নিলে তা উল্টো তাদের দলকেই ধ্বংস করে দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যোগসূত্র থাকার কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের অভিশংসন প্রচেষ্টার বিষয়ে ‘সামান্যতমও’ চিন্তিত নন বলেও জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৪ নভেম্বর) জোর দিয়ে বলেন, কংগ্রেসে নতুন করে ক্ষমতা পাওয়া ডেমোক্র্যাটরা যদি তাকে আবারও অভিশংসিত করার চেষ্টা করে, তবে সে বিষয়ে তিনি ‘সামান্যতমও’ চিন্তিত নন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পরের দিন বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসের বলরুমে সাংবাদিকদের ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়, তারা যদি এমনটা করে, তবে তা ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেই ধ্বংস করে দেবে। কোনো কারণ ছাড়াই অভিশংসন? কেন? একটি সফল দেশ গড়ার জন্য? আমাদের দেশ এখন তার ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সফল।
এরপর ট্রাম্প হঠাৎ করেই সাংবাদিকদের তার প্রিয় প্রকল্পের নির্মাণকাজ দেখিয়ে বলেন, দেখুন, কীভাবে বিম (অবকাঠামোর অংশ) উপরে তোলা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মূল্যায়নের প্রতি শর্তসাপেক্ষে সমর্থন জানান। ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধই ছিল মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ।
সাংবাদিকরা ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয় এটি অনেকাংশেই সত্য। কারণ স্বল্প সময় যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে এটিও বলব—যদি আমাকে আবারও একই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতো, তবে আমি আবারও তা-ই করতাম। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটিই একমাত্র সমাধান। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যায় না।
যুদ্ধটি যথার্থ ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আসলে, আমাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প উপায় ছিল না।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় তার বার্তা ও কৌশল নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি জানান, তার জনসভাগুলোতে প্রচুর মানুষের ‘ভালোবাসা’ দেখা গিয়েছিল, কিন্তু তা রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের বিজয়ে রূপ নেয়নি।
নির্বাচনি প্রচারণার কৌশল নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, না, দেখুন। আমি বলতে চাই—আমি যদি নিজে ব্যালটে থাকতাম (অর্থাৎ নির্বাচনে প্রার্থী হতাম), তবে আমরাই জিততাম। আপনারা তো মানুষ দেখেছেন, প্রতিটি জনসভায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছিল। আমি যদি প্রার্থী হতাম, তবে আমরাই জয়ী হতাম।
ট্রাম্প আরও বলেন, মানুষের সেই ভালোবাসাকে তারা (প্রার্থীরা) কাজে লাগাতে পারেনি। জনসভাগুলোতে যে ভালোবাসা ছিল, তা ছিল অবিশ্বাস্য। আমরা সেই ভালোবাসাকে প্রার্থীদের পক্ষে রূপান্তর করতে পারিনি।
প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ আসনে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি পেয়েছিল ২১৮ আসন। ডেমোক্র্যাটদের ছিল ২১৪টি। এবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে গতকাল বুধবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টা) প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে ২৩৯আসন। রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১৪৭ আসন। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ২১৮টি আসন প্রয়োজন। ৪৯ আসনের ফলাফল ঘোষণা বাকি থাকতেই এই ‘ম্যাজিক ফিগার’ পেরিয়ে গেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।
প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনে ভোট হলেও সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫ আসনে ভোট হয়েছে। এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্তত ৫১টি আসন পেতে হয়। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল ৫৪টি আসন। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির দখলে ছিল ৪৪টি। নির্বাচনের আগে সিনেটের চিত্র ছিল রিপাবলিকান পার্টি ৫৩ আসন, ডেমোক্রেটিক পার্টি ৪৫ আসন। এর বাইরে স্বতন্ত্র দুই সিনেটর সমর্থন দেন ডেমোক্র্যাটদের।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক