কংগ্রেসে বিরোধীদের জয়জয়কার, অভিবাসন নীতিতে কি পরিবর্তন আসবে?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গণগ্রেপ্তার, নির্বাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষার বিষয়ে চাপ বাড়াতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালেই ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি রাতারাতি পাল্টে যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়। ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রশাসন। কিন্তু কংগ্রেসের দুই কক্ষ বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও আর্থিক বাধা তৈরি হতে পারে।
গণঅভিবাসন ও নির্বাসন নীতিতে চাপ বাড়তে পারে
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযান। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু বিতর্কিত ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। ডেমোক্র্যাটরা এসব অভিযানে মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়গুলো সামনে আনতে পারে।
আইসিইর অর্থায়ন নিয়ে কী হবে?
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। ২০২৬ সালের জুনে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস প্রায় ৬৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করে, যা ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।
ফলে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইর অর্থায়ন বন্ধ করা সহজ হবে না। তবে নতুন বাজেট, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং সংস্থাটির কার্যক্রমের ওপর নজরদারির মাধ্যমে চাপ তৈরির সুযোগ থাকবে।
তাহলে কি অভিবাসীদের জন্য স্বস্তি ফিরবে?
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ অভিবাসীদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তারা নির্বাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার নিয়ে নতুন আইন বা সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারবে।
তবে এসব উদ্যোগ আইনে পরিণত করতে প্রেসিডেন্টের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ভেটো দিতে পারবেন। অন্যদিকে, নির্বাহী আদেশ ও বিদ্যমান আইনের আওতায় অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ক্ষমতাও তার হাতে থাকবে।
এতে কংগ্রেসের দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ওপর নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়বে। কিন্তু এতে তার নির্বাসন অভিযান বা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক