ইসরায়েলে ৭ বছরে ৬ নির্বাচন, মূল কারণ কী?
ইসরায়েলের ভোটাররা ২০১৯ সালের পর থেকে ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। মূলত দীর্ঘ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল ও তার রাজনৈতিক বিরোধীদের কারও হাতেই স্থায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় দেশটি ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নির্বাচনি ব্যবস্থার যে মূল কারণগুলোর জন্য বারবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা হলো :
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব
দেশটির পার্লামেন্টারি ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো একক দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। ফলে জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বা নির্ধারিত সময়ে চুক্তি না হলে দেশটিকে বারবার নতুন নির্বাচনের মুখে পড়তে হয়।
২০১৯ সালের রাজনৈতিক অচলাবস্থা
২০১৯ সালে অবগিদোর লিবারম্যান, কট্টর অর্থোডক্স (আল্ট্রা-অর্থোডক্স) পুরুষদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিলটি অপরিবর্তিত রাখার শর্তে নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে চুক্তি না হওয়ায় সে বছর সেপ্টেম্বর মাসে পুনরায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়, যা আবার অচলবস্থায় শেষ হয়।
২০২০ সালের ঐক্য সরকারের পতন
তৃতীয় দফার ভোটের পর ২০২০ সালে নেতানিয়াহু ও বেনি গান্টজের মধ্যে গঠিত ঐক্য সরকারটি বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে একই বছরের ডিসেম্বরে ভেঙে পড়ে।
২০২১ সালের জোট সরকার ও বিলুপ্তি
২০২১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটাতে হাত মেলায় বিপরীতমুখী মেরুর আটটি রাজনৈতিক দল। নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিডের যৌথ নেতৃত্বে গঠিত এই অভূতপূর্ব জোট সরকার নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম হয়। তবে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও কয়েকজন আইনপ্রণেতার জোট ত্যাগ করার কারণে মাত্র এক বছরের মাথায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় তারা। ফলে বাধ্য হয়েই সরকার বিলুপ্ত ঘোষণা করে পুনরায় নতুন নির্বাচনের পথে হাঁটতে হয় এই ক্ষমতাসীন জোটকে।
২০২২ সালে নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন
পরবর্তীতে ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে নেতানিয়াহু ফের ক্ষমতায় ফিরে আসেন এবং একটি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক