মডেলের মাথা দিয়ে রান্না হয় স্যুপ, পা ছিল ফ্রিজে, আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
হংকংয়ের জনপ্রিয় মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোই (২৮) হত্যা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতে কৌঁসুলিরা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও নৃশংস বর্ণনা তুলে ধরেছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে এ বিচার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।
কৌঁসুলিরা জানান, অ্যাবি চোইয়ের বিচ্ছিন্ন মাথার খুলি একটি বড় স্যুপের পাত্রে সবজির সঙ্গে রান্না করা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাত্রটির ভেতরে গাজরসহ অন্যান্য সবজি ছিল। আর তার খণ্ডিত দুই পা পাওয়া যায় ফ্রিজের ভেতর।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে। ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন ২৮ বছর বয়সী অ্যাবি চোই। তিন দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি হংকংয়ের তাই পো এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, ফ্ল্যাটটিকে মূলত একটি কসাইখানায় রূপান্তর করা হয়েছিল। অভিযুক্তরা দেয়ালে ত্রিপল টাঙিয়ে নিয়েছিলেন। তারা রেইনকোট এবং মুখের ফেসশিল্ড পরতেন। শরীরে যাতে রক্তের দাগ না লাগে, তাই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাংস কাটার স্লাইসার, বৈদ্যুতিক করাত এবং জামাকাপড় জব্দ করে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রির বিরোধ। হংকংয়ের হো মান তিন এলাকার কাডুরিয়া এস্টেটে একটি ফ্ল্যাট কেনেন অ্যাবি চোই। ২০১৯ সালে তিনি ৬ কোটি হংকং ডলারে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। পরে সেটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার (প্রায় ৬৯ লাখ পাউন্ড)।
অ্যাবি চোই তার সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়াংয়ের সন্তানদের কাছাকাছি রাখতে এই ফ্ল্যাট কেনেন। কারণ সেখানে সাবেক শাশুড়ি ও শ্বশুর থাকতেন। তবে অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ডিউটি বা কর এড়াতে তিনি ফ্ল্যাটটি সাবেক শ্বশুর কোয়াং কাউয়ের নামে রেজিস্ট্রি করেছিলেন।
পরে ২০২২ সালে অ্যাবি চোই ফ্ল্যাটটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। ফ্ল্যাট থেকে তাদের বের করে দেওয়া হলে কোন্দল চরম আকার ধারণ করে।
আদালতে অ্যাবি চোইয়ের কিছু ব্যক্তিগত ভয়েস মেসেজ বাজিয়ে শোনানো হয়। মায়ের কাছে পাঠানো ওই মেসেজে তিনি সাবেক শ্বশুরবাড়ির অকৃতজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ডিভোর্স হওয়ার পরও তিনি সাবেক স্বামীর পরিবার ও সন্তানদের সব খরচ চালাচ্ছিলেন। কিন্তু তারা অকৃতজ্ঞের মতো আচরণ করছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ফ্ল্যাটটি দখল করতেই সাবেক শ্বশুর কোয়াং কাউ এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন তার দুই ছেলে— অ্যাবি চোইয়ের সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়াং এবং ভাসুর অ্যান্থনি কোয়াং। তারা তিনজন মিলে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। এরপর অ্যাবি চোইকে ফাঁদে ফেলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
এই মামলায় সাবেক শ্বশুর কোয়াং কাউ, সাবেক স্বামী অ্যালেক্স কোয়াং এবং সাবেক ভাসুর অ্যান্থনি কোয়াংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার শুনানি চলাকালে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
প্রসিকিউটর শার্লট ড্রেকট ৯ সদস্যের জুরি বোর্ডকে জানান, মূল ঘাতক যে-ই হোক না কেন, এই তিন আসামিই একত্রে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছেন। টানা আট সপ্তাহ ধরে এই আলোচিত মামলার বিচারকাজ চলবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক